দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের গৃহবধূ আয়েশা বেগম অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অদম্য মনোবলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা লাভের পর এবার বুটিকের তিনটি কারখানা দিয়ে ভাগ্য বদলে এখন এলাকার কোটিপতির মধ্যে তিনিও একজন।
সারা বছর বুটিকে কাজ হলেও ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বেশি থাকায় তার তিনটি কারখানায় বুটিকের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই এলাকার ৩ শতাধিক নারী শ্রমিক। সংসারের কাজের ফাঁকে আয়েশার কারখানাগুলোতে বুটিকের কাজ করে স্থানীয় নারীদের ভাগ্যও বদলে যাচ্ছে। তারা প্রতিমাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।
বাবার দারিদ্র্যের কারণে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হলেই বন্ধ হয়ে যায় আয়েশার শিক্ষাজীবন। তবে এতে তিনি দমে যাননি। সাহস ও ইচ্ছাশক্তি প্রবল থাকলেই যে কোনো কাজ যে কারো পক্ষেই করা সম্ভব। তাই বিয়ের পাঁচ বছর পর আবারও লেখাপড়া শুরু করে বিএ পাস করেন। এর মাঝে অন্যর একটি দোকানে বুটিকের কাজের মাধ্যমে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অদম্য মনোবলে দেখিয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতি সাফল্য অর্জনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পান আয়েশা বেগম। পরে সমাজের বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য নিজের ঘরে গড়ে তোলা ছোট বুটিকের আয় দিয়ে গ্রামে বড় করে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। ঘুরে যায় তার জীবনের গতি। বতর্মানে তার নিজ বাড়ি ও জেলার দালাল বাজার এলাকাসহ তিনটি কারখানায় রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রায় ৩০০ নারীর কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই এলাকার এখন অনেক নারী সংসারের পাশাপাশি আয়েশার বুটিকে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
আয়েশা বেগম জানান, উদ্দীপনা দিয়ে এলাকার নারীদের এগিয়ে নিয়ে সমাজ পরিবর্তন করাই হবে তার সফলতা। তাছাড়াও গড়ে তোলা দুটি বুটিক কারখানায় সরকারিভাবে কিছু ঋণ ও সহযোগিতা পেলে আরো নারীর কর্মসংস্থান করাসহ উত্পাদন বৃদ্ধি সম্ভব হতো। তিনি আরো জানান, তার গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য তিনি বর্তমানে নার্সিং ট্রেনিং নিচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজিতে।
