বস্তিবাসীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যখাতে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ১৭:০৪
 
দুই প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। নিম্ন আয়ের মানুষদের গৃহায়ন সহায়তা প্রকল্পে (লো ইনকাম কমিউনিটি হাউজিং প্রজেক্ট) ৫ কোটি ডলার এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এইচএসডিপি) অতিরিক্ত ১৫ কোটি ডলারের এই ঋণ দেয়া হবে।
 
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার শেরেবাংলানগরস্থ ইআরডি সম্মেলন কক্ষে পৃথক দুটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। উভয় ঋণ চুক্তিতে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী সফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন স্বাক্ষর করেন।
 
এ সময় জানানো হয়, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি খাত উন্নয়নের কর্মসূচিতে এই বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষদের গৃহায়ন সহায়তা প্রকল্পটি গৃহায়ন ও গপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
 
বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে শহুরে জনগোষ্ঠীর ৬২ শতাংশ বস্তিতে বাস করছে। এই হার এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। এই প্রকল্পটি পাইলট ভিত্তিতে ঢাকার বাইরে কয়েকটি শহরের বস্তিবাসীদের আবাসন ব্যবস্থার মান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এজন্য নিম্ন আয়ের ৪০ হাজার শহুরে বস্তিবাসীদের ঋণ দেয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ২০ হাজার জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। প্রকল্প এলাকায় কমিউনিটির চাহিদা অনুযায়ী ড্রেনেজ, বিদ্যুত্, পয়ত্ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে দেয়া হবে। এ বিষয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীন হবার পর মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বাস করতো। এটি দিন দিন বেড়েছে। বর্তমানে শহরাঞ্চলের মানুষেরা জিডিপিতে প্রায় ৭০ ভাগ অবদান রাখছে। কিন্তু তাদের সুযোগ সুবিধা সেই ভাবে বাড়েনি। শহরাঞ্চলে মানুষ বৃদ্ধির সাথে সাথে বস্তিবাসীদের সংখ্যাও বেড়েছে। তাদের সুষ্ঠূ আবাসনের আওতায় নিয়ে আসতে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।
 
কাজী সফিকুল আযম বলেন, পিকেএসএফ এর সহযোগী এনজিওর মাধ্যমে নারয়নগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ কয়েটি শহর/পৌরসভাগুলোতে ঋণ বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ভারতের সফল প্রকল্পের অনুসরণে বাংলাদেশে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর সবমিলিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হলো। গতবছর হয়েছিলো ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গতবছরের তুলনায় কিছু কম হলেও চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা সম্ভব হয়েছে। এটি বড় অর্জন। আগামি জুলাই মাসে বিশ্বব্যাংকের সাথে আরো ৪টি ঋণ চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।