ঘরোয়া আমেজেই ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামবে বেলজিয়াম

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ১৭:২৭
ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের মোকাবেলা করবে বেলজিয়াম। শুক্রবার ফ্রান্সের বেলজিয়াম সীমান্তবর্তী শহর লিলিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। শহরটিতে গ্যারেথ বেলের মুখোমুখি হতে বেশ স্বস্তিই বোধ করতে পারেন বেলজিয়াম অধিনায়ক ইডেন হ্যাজার্ড।
 
কারণ সীমান্তবর্তী শহর হওয়াতে বিপুল সংখ্যক বেলজিয়ান সমর্থক মাঠে উপস্থিত থাকবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যেটি বিদেশের মাটিতে হলেও ঘরোয়া আমেজ দেবে বেলজিয়াম খেলোয়াড়দের।
 
সর্বশেষ নকআউট পর্বে হাঙ্গেরিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের শীর্ষ র‌্যাংকধারীরা। ওই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন ২২ বছর বয়সী বেলজিয়ান অধিনায়ক হ্যাজার্ড। তিনি নিজে অসাধারণ একটি গোল আদায়ের পাশাপাশি আরেকটি গোলের জন্য বল বানিয়ে দিয়েছিলেন।
 
দলের কোচ মার্স উইলমোর্টস বলেন, বেলজিয়াম সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে অংশ নিতে লিলি যাবার জন্য বেশ আগে থেকেই মুখিয়ে রয়েছেন হ্যাজার্ড। তিনি বলেন,‘ সেখানে যদি দেড় লাখ ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামও থাকে তাও আমরা কানায় কানায় পূর্ন করে ফেলতে পারব। এটি সীমানার খুব কাছে। আর হ্যাজার্ড নিজেই এই মাঠে খেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। যে কারণে সেখানে সে ভাল খেলবে।’ 
 
হ্যাজার্র্ডের কাছে এটি হবে নিজ শহরে প্রত্যাবর্তনের ঘটনা। যেখানে শৈশবে তার হাতে খড়ি হয়েছে এবং ক্যারিয়ারকে বিকশিত করেছিলেন। হ্যাজার্র্ডের জন্ম বেলজিয়ামের ফ্রেঞ্চ ভাষাভাসি ওয়ারোনিয়া অঞ্চলের ছোট্ট শহর বারাইনি-লে-কমটেতে। যেখান থেকে এক ঘণ্টা যাত্রা করে লিলিতে পৌছানো যায়। আর সেই লিলি একাডেমিতে ২০০৫ সালে যোগ দিয়েছিলেন ১৪ বছর বয়সী হ্যাজার্ড। যদিও শহরটি ছেড়ে যাবার পর আর ফিরে আসেননি তিনি।
 
বিইন স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চেলসি তারকা বলেন, ‘আপনার পরিবার, পিতা-মাতা ছেড়ে অন্য একটি দেশে পাড়ি জমানোটা খুব সহজ কাজ নয়। হোক সেটি ফ্রান্সে কাছের একটি শহর। আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন এটি কোথায়? জবাবে আমি বলব এখানেই আমি জীবন সম্পর্কে শিখেছি, কারণ মাত্র ১৪ বছর বয়সে আমি এখানে এসেছি। এটি সেই জায়গা যেখানে আমি অন্যদের সম্মান করতে শিখেছি, যেখানে আমি প্রথম ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছি। লিলিতে আমার প্রতিটি কাজেই সফলতা পেয়েছি। চেলসিতে যোগ দেয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সেখানে সব কিছুই ছিল নিখুঁত।’
 
ইউরো মিশনের শুরুতে বেলজিয়াম হোঁচট খেয়েছে ইতালীর কাছে হেরে। লিওতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ০-২ গোলে ইতালীর কাছে হার মানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ দলটি। এরপর আর অবশ্য ফিরে তাকাতে হয়নি বেলজিয়ামকে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমেলু লুকাকুর নৈপুন্যে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। শেষ ম্যাচে তারা সুইডেনকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোল নিশ্চিত করে।
 
এদিকে প্রথমবারের মত ইউরোতে অংশগ্রহনের সুযোগ পেয়েই চমক সৃষ্টি করে গ্যারেথ বেলের ওয়েলস। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্লোভাকিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে পিছিয়ে পড়লেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাশিয়াকে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারানোর কারণে ইংল্যান্ডকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলতে জাযগা করে নেয় ওয়েলস। নকআউট পর্বে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ওয়েলস। এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারুক বা জিতুক ইতিহাসের পাতায় এরই মধ্যে স্থান করে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের এই অংশীদাররা।