শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ‘মানম্মত প্রাথমিক শিক্ষা’ নিয়ে জাতীয় সম্মেলন

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ১৮:০৫
‘মানসম্মত প্রাথমিকশিক্ষা’নিয়ে জাতীয় সম্মেলনে বড়দের সামনে নিজেদের স্বপ্নের বিদ্যালয় নিয়ে এমন প্রত্যাশাগুলো উঠে এসেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কথায়।
 
বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলেকচি-কাঁচাদেরকণ্ঠে এমন প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। এসময় তাদের প্রত্যাশার কথা শুনে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিশুরাইতো বলে দিল মানসম্মত শিক্ষা কী?
 
স্কুল সময় কমানো, শহরের বিদ্যালয় গুলোতে উপবৃত্তির টাকা প্রদান ও ছাত্র-শিক্ষকের আনুপাতিক হার কমানো জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
 
দেশের ৬৪ জেলা থেকে ২৫৬ জন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নেন।
 
সিলেটের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিষা রায় অমি বলেন, ‘আমার স্বপ্নের স্কুল হবে সাজানো গোছানো।শিক্ষকরা হবে বন্ধুর মতো, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন। কোনো পড়া বুঝতে না পারলে তা নির্ভয়ে  শিক্ষকদের জানাতে পারব। স্কুলে থাকবে সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ।”
 
লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়েছেন পঞ্চগড়ের ২ নম্বর পঞ্চগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত জান্নাত ছোটন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত স্কুল।মধ্যে আধা ঘণ্টার বিরতি। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পর আর খেলাধুলার সময় থাকেনা।স্কুলের সময়টা এমন ভাবে করেন যেন আমরা খেলতে পারি।’
 
পিরোজপুর সদরের পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিবা দেবনাথ দেশের সবগুলো স্কুলে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ চান। তিনি বলেন, ‘মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পড়ানো হলেতা সহজেই বুঝতাম। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ থাকলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ বিদেশের সব তথ্য জানা আমাদের জন্য আরো সহজ হত।'
 
নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন চাঁদপুরের ৫৬ নম্বর খলিশাডুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিফরিন হৃদিতা। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে কোনো নিরাপত্তা দেয়াল নেই।ফলে বখাটে ছেলেরা স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের বিরক্ত করে।’
 
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার একটি স্কুলের শিক্ষার্থী অর্পণ স্কুলে ‘মিড-ডেমিল‘ দেয়া বিস্কুট ভালো না লাগার কথা অকপটে জানান। তিনি বলেন, ‘এই বিস্কুট বেশি ভালো না। প্রতিদিন এক প্যাকেট দেয়।’
 
এটা মনে করা ঠিক না যে আরো শিক্ষিত ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রশাসন শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টে দেবেন। এর জন্য শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, প্রধান শিক্ষক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
 
মূলত এজন্যই এই জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করা হয়।