তানোর পৌরসভার মেয়র গ্রেফতার

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ১৮:১৯
ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে রাজশাহীর তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
 
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শামীমা শারমীন বাদী হয়ে মেয়র মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
 
মামলার বিবরণ, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের ন্যায় সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার দরিদ্রদের ঈদ উদযাপনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করছেন। বৃহস্পতিবার তানোর পৌরসভার ৩টি বুথের মাধ্যমে পৌর এলাকার ১ হাজার ৫৪০ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। তানোর পৌরসভায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অফিসারের দায়িত্বরত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শামীমা শারমীন। এ সময় অন্য ২টি বুথে চাল ওজনে কম পেয়ে ভুক্তভোগীরা ট্যাগ অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় সমাজসেবা অফিসার চাল কম দেয়ার বিষয়টি মেয়রকে অবহিত করেন। মেয়র কোন গুরুত্ব না দেয়ায় তিনি বিষয়টি তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদকে মোবাইলে জানান।
 
খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ, তানোর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, তানোর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), তানোর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুস সবুরসহ সংগীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে তানোর পৌর কার্যালয়ে চাল বিতরণ স্থলে হাজির হয়ে দেখেন সেখানে বালতিতে করে ওজন ছাড়াই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ সময় বিতরণকৃত ভিজিএফ চাউল ইউএনও সকলের সামনে পুনরায় ওজন করে ২০ কেজির পরিবর্তে বেগম আরার বস্তায় ৯ কেজি ৬৫০ গ্রাম, আলেকজানের বস্তায় ৯ কেজি ৮ গ্রাম, আমোলীর বস্তায় ৭ কেজি ৬১৫ গ্রাম,  মফিজের বস্তায় ১৭ কেজি ৮৭ গ্রাম চাল পান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে আটকের নির্দেশ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেয়র মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
 
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান। এরপর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।