যাকাত প্রদানে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ১৯:৩৪
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যাকাত প্রদান বা অন্য কোনো গণজমায়েতের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।
 
বিশেষ করে পুলিশ যাকাত প্রদানে নিরাপত্তা দেবে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তবে তিনি যাকাতের কাপড় বা টাকা প্রদানের আগে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, 'পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উদযাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সব এসপি'দের ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জাকাত প্রদানসহ আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।'
 
বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান রমজানের শেষে যাকাত প্রদান করেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় যাকাত প্রার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ১৯৮০ সাল থেকে বিগত ৩৫ বছরে প্রায় ২শ'জন জাকাত প্রার্থী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ জুলাই ময়মনসিংহ শহরের অতুল চক্রবর্তী সড়কে নূরানি জর্দা কারখানায় পদদলিত হয়ে ২১ জন মহিলা ও ৪ শিশু নিহত হয়। গতবছর ২৪ জুলাই বরিশালে খান এন্ড সন্স’র যাকাত প্রদানকালে পদদলিত হয়ে ২ জন মহিলা নিহত ও অপর ৬ জন আহত হয়। একই দিন মানিকগঞ্জে অপর এক ঘটনায় ২ জন বয়স্ক মহিলা নিহত হয়।
 
১৯৮০ সালে যাকাত প্রদানকালে রাজধানীর জুরাইনে পদদলিত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়। ১৯৮৩ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অপর এক অনুষ্ঠানে তিন শিশু নিহত হয়। ১৯৮৭ সালের ২৩ মে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের এক খোলা চত্বরে যাকাত প্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়। ১৯৮৯ সালের ২ জন ১৪ জন ও ১৯৯১ সালের ১৩ এপ্রিল ২ জন যাকাত প্রার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া ১৯৯০ সালের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রামে যাকাত প্রদানের এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ জন নিহত হয়।