এবার ঈদে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। বলা চলে ঈদ চলচ্চিত্রের অবস্থা বেশ রমরমা। সেই তালিকায় রয়েছে দু’টি যৌথ প্রযজোনার চলচ্চিত্র। এর মধ্যে একটি রয়েছে দেশের শাকিব খান, অন্যটিতে ওপার বাংলায় জিৎ। নুসরাত ফারিয়ার সাথে জুটি বেধে ‘বাদশা’ শিরোনামে প্রথম ঢাকায় কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে জিতের।
ছবির প্রচারণার জন্য সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন জিৎ। দুই দিন থাকার পর আবারও কলকাতায় ফিরে যান তিনি। ঢাকায় থাকাকালীন ইত্তেফাকের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র ও ঢাকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
প্রথম ঢাকায় কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। এখানে শুটিংয়ের প্রয়োজনে কিছুদিন ছিলেন, এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলুন—
বাংলাদেশি মানুষ খুবই আন্তরিক। এই প্রশংসা দিয়েই শুরু করতে চাই। যতদিন এখানে থেকেছি মনে হয়নি আমি কাটা তারের এপারে আছি। বিষয়টি আমি এভাবে দেখিও না। কারণ মানুষের প্রাথমিক ও মূল বাধার বিষয়টি ভাষাগত যোগাযোগ। আমি যখন এখানে বাংলায় কথা বলতে পারছি তাই অন্য দেশ ভাবার কোনো কারণ ছিল না। আর আমি খেতে খুব ভালোবাসি। ভোজনরসিক বলতে পারেন। এখানে যখন শুটিং করি, কেউ একজন ইলিশ মাছ দিয়ে তৈরি কোনো কাবাবের মতো খাইয়েছিল। ভুলার মতো না খাবারটা। আর আজকেও (সাক্ষাৎকারের দিন) দুপুরের খাবারে বিশেষ কিছু আছে শুনেছি। দেখা যাক কি থাকে।
IMG0
বাংলাদেশের এসে এমন কোনো বিষয় কি বলতে পারবেন, যা আবেগী করে তোলে—
ভাই সম্বধন। এই যে আপনার সবাই জিৎ ভাই বলে ডাকছেন, এটা আমাকে খুব আবেগী করে তোলে। মনে হয় খুব আপন কারও সাথে কথা বলছি। দেশের বাইরের একটি ঘটনা বলি। আমি মাসকাটে ‘দিওয়ানা’ ছবির শুটিং গিয়েছি। আমি আর শ্রাবন্তি এয়ারপোর্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি আগে হাঁটছি, পেছনে শ্রাবন্তী। হঠাৎ কয়েকজন ‘জিৎ ভাই’ বলে ডেকে ডেকে সামনে এলো। আমি আর তাদের জিজ্ঞেস করিনি তারা পশ্চিমবঙ্গের কি-না। কারণ আমি জানতাম তারা বাংলাদেশি এবং আমার ধারণাই ঠিক ছিল। বিষয়টি খুবই আন্তরিক। আর সেই এয়াপোর্টেই ফেরার পথে জুব্বা পরে আসছিলাম। মজার বিষয় কেউই আমাকে চেনেনি।
এখন তো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দূর থেকেও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এই দেশের এমন কোনো ভক্ত আছে কি-না যাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়?
বাংলাদেশের আমার অনেক ভক্ত আছে। এটি আমি শুনেছি এবং ফেসবুক, টুইটারে তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়মিতই পাই। একটি পরিবারের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। ঢাকায় আসার পরও তাদের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে। কিন্তু দেখা হয়নি।
প্রথম কোনো যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। এই দুই বাংলার প্রযোজনার সুবিধার বিষয়টি আপনার কাছে কী মনে হয়?
আসলে এই উত্তরটি প্রযোজকরা ভালো দিতে পারবেন। আমি অভিনয় করি। অভিনয় শেষ করে চলে যাই। তবে একবারেই যে বুঝি না, তা নয়। যেহেতু ভাষাটা এক। একই ছবি দুই বাংলাতেই মুক্তি দেওয়া সম্ভব তাই এখানে বানিজ্যিক বিষয়টা খুবই প্রভাব ফেলে। বড় একটি বাজেট, বড় মার্কেট হলে ভালো ভালো ছবি নির্মাণ সম্ভব।
কলকাতার ছবির বাজার প্রসঙ্গে বলুন—
খুবই ভালো। চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়ছে। প্রযুক্তির জায়গাটাও অনেক উন্নতি হয়েছে। সব মিলিয়ে বলবো ভালো একটি অবস্থানে আছি আমরা।
কিন্তু এখন কলকাতার ছবির যেই বাজেট, সেই অনুযায়ী বাজারটা খুব একটি বড় না। সেই জায়গা থেকে ছবির লাভের হিসাবটা কতটা ইতিবাচক?
আসলে যদি লাভের হিসাবটা ইতিবাচক না হতো তাহলে হয়তো এতটাকা ছবিতে লগ্নি করা হতো না। আমি যতটুকু বুঝি সেটাই বললাম। আর ছবির আয় শুধু হল থেকেই একবারে না। অন্যান্য মাধ্যমেও লাভের হিসাবটা যোগ হয়।
IMG1
যেহেতু আমাদের দেশের কলকাতার চ্যানেল চলে, তাই কলকাতার তারকাদের সম্পর্কে এখানে অনেকেই ধারণা রাখে। কলকাতায় আপনারা আমাদের চ্যানেল দেখতে পান না। সেহেতু আমাদের তারকাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ কতটা পান?
আমার বিষয়ে বলি। যেহেতু শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকি তাই খুব একটা অন্য কিছু নিয়ে জানা হয় না। তবে আমি এই দেশের অনেকের কথাই জানি। শাকিব খান এখানকার বড় একজন তারকা। এরপর রিয়াজের কথা শুনেছি। ২০০৩ সালে মান্না ভাইয়ের সাথে আমার আলাপের সুযোগ হয়েছিল। ফেরদৌসের কথা না বললেই না। তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক। এর আগে যখন এসেছিলাম অনেক্ষণ আড্ডা হয়েছিল।
নুসরাত ফারিয়ার সাথে ‘বাদশা’ ছবিতে রসায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইবো—
ফারিয়া খুব ভালো অভিনয় করে। রসায়নটা তো পর্দায় আপনারা দেখতে পাবেন। ফারিয়ার সাথে অনেক খুনসুটির সম্পর্ক। শুটিং সেটে পুরোটা সময় এভাবেই চলে আমাদের।
প্রতিটি অভিনেতার একটি ছবি থাকে। যেটি ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। আপনার কোন ছবিটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে?
‘সাথী’। এই ছবিটি আমার প্রথম বাংলা ছবি। যদিও এর আগে সাউথেও ‘চান্দু’ নামের একটি ছবিতে আমি কাজ করেছিলাম। ‘সাথী’ ছবিটি প্রথম বাংলা ছবি হলেও, এটিই আমাকে সামনের পথগুলো পরিস্কার করে দিয়েছে। আসলে একটি কথা কী। একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে যতজন ভক্ত তৈরি হয় তারা কিন্তু আজীবন ভক্ত থেকে যায়। আমার ‘সাথী’ ছবি যখন মুক্তি পায় তখন হয়তো অনেকেই স্কুলে পড়তেন। এখন তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কেউ চাকরি করছে। তারা কিন্তু এখনও আমার ভক্ত। তাদের জন্যই আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করতে পারছি।
ঈদের দিন ছবি মুক্তি হলে ছবির নায়ক নায়িকারা হল ঘুরে ঘুরে ছবি দেখতে যান। আপনাকে কি ঈদে ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে?
আসলে আমি শুনেছি এখানে ছবি মুক্তি মানেই ঈদের দিনের মতো। আর ঈদের সময়টাতো আরও ঘটনাবহুল। আমার ইচ্ছা ছিল এর অংশ হবার। কিন্তু কলকাতায় ছবির সিডিউল দেওয়া আছে। খুবই আফসোস হচ্ছে থাকতে পারবো না।
— ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন। ‘বাদাশা’র জন্য শুভ কামনা।
— আপনাকেও ধন্যবাদ। ইত্তেফাকের মাধ্যমে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।
