ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় চরচান্দিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোয়ানু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও উপকূলীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকেই ত্রাণ সামগ্রী ও আর্থিক কোন সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তা নির্মাণ ও মেরামত করে তারা এমনিতেই আর্থিক কষ্টে আছেন। এখনো ঠিক করা হয়নি ভেঙ্গে যাওয়া সেই রাস্তাগুলো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করে ঈদ আনন্দ করবেন তা নিয়ে তারা চিন্তিত। অনেকেই বলছেন, এবারে ঈদ আনন্দ থেকে তাদের পরিবার বঞ্চিত হবেন।
জানা গেছে, গত ২১ মে দুপুরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে জোয়ারের সাথে প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতায় পানি উঠে পড়ে। চরচান্দিয়া এলাকার নুরুল আলম (৩৫) নামে এক যুবক ওইদিন দুপুরে মহিষ আনতে জমিনে গেলে জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে পড়ে তার মৃত্যু হয়। জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় এলাকার ৫টি গ্রামসহ নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হলে প্রায় ২ হাজার লোক আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। প্লাবিত এলাকার বাড়িঘরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে কৃষি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। ভেঙ্গে পড়ে রাস্তাঘাট ও গাছপালা। রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক শুকনো খাবার ও ঔষধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সোনাগাজীর উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র ক্ষতিগ্রস্ত চরচান্দিয়ায় বড়ধলি এলাকার মো মহসিন, আনোয়ারা বেগম, সালমা আক্তার, সোহেল, মাকসুদ মিয়া ও আবুল খায়ের লিটন জানান, রোয়ানুতে ক্ষতি হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও তারা কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। রোয়ানু আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা কেউ দেখতে পর্যন্ত আসেনি।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান বলেন, রোয়ানু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ওইদিন তাৎক্ষণিকভাবে দেড় লাখ টাকা ও ৫ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য বিতরণ করা হয়। পরিবর্তীতে ক্ষতি নিরূপণ করে আংশিক ও পুরোপরি ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারকে ২ বান্ডেল ঢেউটিন এবং ৬ হাজার টাকা দেয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে ১২১টি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সাহায্য পায়নি এরকম কোন অভিযোগ নাই। কারণ টেগ অফিসার, পিআইও ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে যত দরখাস্ত পেয়েছেন এবং যত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রত্যেককে সাহায্য দেয়া হয়েছে।
