দুই বন্ধুকে জঙ্গিদের মাঝে ফেলে রেখে নিজের প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ নেননি ফারাজ আইয়াজ হোসেন।
জঙ্গিদের মূল টার্গেট ছিল বিদেশিদের হত্যা করা। বাংলাদেশিদের তারা ছেড়ে দিচ্ছিল। জঙ্গিরা ফারাজকে একসময় মুক্তি দেয়। চলে যেতে বলে। তার সঙ্গে থাকা অন্য বাংলাদেশিরা নিজেরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় ফারাজকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বারবার ডাকতে থাকেন। ফারাজ বলেন, আমার এই দুই বন্ধুর কী হবে। কিন্তু জঙ্গিরা জেনে গিয়েছিল, আবিন্তা কবির যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। আর তারুশি একজন ভারতীয়। জঙ্গিরা ওদের মুক্তি দিতে রাজি ছিল না। তখন ফারাজ বলেন, দুই বন্ধুকে ফেলে রেখে আমি যাব না।
শুধু বন্ধুদের বিপদের মুখে ফেলে রেখে নিজে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে চাননি বলে ফারাজ থেকে গিয়েছিলেন। বন্ধুত্বের জন্য তিনি নিজের জীবন উত্সর্গ করেন।
ফারাজ পড়তেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গরমের ছুটিতে এসেছিলেন দেশে। তার বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী অবিন্তা কবীর। আর ভারতের তরুণি তারুশি জৈন পড়তেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে। পিতার কাজের সূত্রে তিনিও ঢাকায় শেষ করেছেন স্কুলের পড়াশোনা। এরা তিনজন ছিলেন পরস্পরের বন্ধু। তবে এসময় তারুশি ঢাকা এসেছিলেন বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তিতে। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল ঢাকা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিল দেখা করতে। সেখানে জঙ্গি হামলার শিকার হন তারা। প্রাণ যায় এই তিন বন্ধুর।
এ প্রসঙ্গে ফারাজের নানা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান বলেছেন, নামাজ-কালাম ফারাজের ভালো জানা ছিল। এটাও শোনা যাচ্ছে যে, জঙ্গিরা পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত পাঠ করতে বলেছিল। যারা বলতে পেরেছে, তাদের তারা ছেড়ে দিয়েছিল। ফারাজের তা না পারার কোন কারণ নেই।
