নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিজের মেয়ের শরীরে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেয়ার প্রতিবাদ করায় রাজীব সূত্রধর (৩০) নামের সংখ্যালঘু যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় এক বখাটে। রোববার রাত পৌনে ৯ টায় উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাজীব সূত্রধর ওই এলাকার সুনীল কুমার সুত্রধরের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী প্রভাতি রানী জানায়, তার স্বামী কেন্দুয়াপাড়া এলাকার মৃত সুনীল সুত্রধরের ছেলে রাজীব কুমার সুত্রধর। তিনি কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত শনিবার দুপুরে স্থানীয় সানাউল্লাহ মিয়ার বখাটে ছেলে জহিরুল ইসলাম তাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় এসে সিগারেট পান করছিল। এসময় বখাটে জহিরুল তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তি রানীর (৩) বুকে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেয়। এই ঘটনা রাজিব স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানালে তিনি বখাটে জহিরুলের বাড়ীতে গিয়ে শাসিয়ে আসেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যার দিকে জহিরুল ইসলাম রাজীবের ঘরে এসে তাকে মারধর করে। মারধরের ঘটনা স্থানীয় কিরণ মিয়া নামে এক যুবককে রাজীব জানালে কিরণ মিয়া বখাটে জহিরুলকে কয়েকটা চর-থাপ্পর দেয় এবং এনিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলে আসে।
এদিকে এ ঘটনার জের ধরে রোববার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে রাজীব তার বাড়ীর সামনে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের চাঁন টেক্সটাইল মিলের সামনে এলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বখাটে রাজীব চাপাতি দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে তাকে গুরুত্বর জখম করে। রাজীবের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে রাত পৌনে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তছলিম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বখাটে জহিরুলের বড় ভাই কবির হোসেন ও ভাতিজা ইকবাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জন্য আটক করেছে। ঘাতক জহিরুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
