গুলশানে আতঙ্ক, ফাঁকা রেস্টুরেন্ট শপিংমল

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৬, ০০:২৫
হলি আর্টিজানে এখন স্তব্ধতা। পুলিশ ব্যারিকেডের পাশে শোক জানাতে আসা হূদয়বান মানুষরা রেখে গেছেন ফুলের তোড়া। ফুলের মাঝে জ্বালানো মোমবাতি গলে শেষ হয়ে এসেছে। সারাদেশের মানুষ শোকে কাতর।
 
আচমকা এই হত্যাযজ্ঞ পুরো গুলশানে ছড়িয়ে দিয়েছে আতঙ্কের স্রোত। ভয়, শোক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।
 
গুলশানে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট। তাদের অথেনটিক ডিশের কারণে ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় সেসব রেস্টুরেন্টে এখন কবরের নিস্তব্ধতা।
 
গুলশান এলাকায় গাড়ি ও পথচারী তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। আগে থেকেই গুলশান-১ শুটিং ক্লাবের সামনে, বনানী ১১ নম্বর সড়কে পুলিশের তল্লাশি চৌকি ছিল। এখন সেসব চৌকিতে নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়া কোনো গাড়ি, রিকশা, পথচারীকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের তল্লাশির সময় এক গাড়ি চালক বললেন, এই তল্লাশি যদি আগে করতো তাহলে, জঙ্গিরা অস্ত্র নিয়ে গুলশানে ঢুকতে পারতো না। এখন তল্লাশি করে কি লাভ।
 
গুলশানের পথে-ঘাটে মানুষের চলাচল একেবারে কম। শপিংমলগুলোতে ক্রেতা নেই। সন্ধ্যার পরে মানুষের আনাগোনা এসে পৌঁছেছে শূন্যের কোটায়। ডিপ্লোমেটিক জোনে নিরাপদ এলাকায় এমন হত্যাকাণ্ডের পরে গুলশানের রেস্টুরেন্টগুলো খাঁ খাঁ করছে। কোন ক্রেতা নেই। ডিপ্লোমেটিক জোন হওয়ায় গুলশানের আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোতে বিদেশিদের ভিড় লেগেইে থাকে। এখন বিদেশিরা তো বটেই আতঙ্কে দেশি বাসিন্দারাও ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন না।
 
যেসব বিদেশি কাজের সূত্রে এখানে বসবাস করেন তারা বেশ ভয় পেয়েছেন। তারা এর আগে নির্বিঘ্নে গুলশান বারিধারার লেকে, পার্কে ঘুরে বেড়াতেন, রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া দাওয়া করতেন। কোনো বাধা বা ভয় ছিল না। জঙ্গিদের আক্রমণের টার্গেট বিদেশিরা হওয়ার কারণে এখন তারা রয়েছেন খুব আতঙ্কে। শুধু রেস্টুরেন্টগুলোতেই নয়, গুলশানের পাঁচ তারকা বা আন্তর্জাতিক মানের যে হোটেলগুলো রয়েছে সেখানেও বিদেশিদের আনাগোনা কমে গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশিদের জন্য আলাদা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদেশি হত্যার পর তারা বেশ আতঙ্কিত। একলা বের হতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
 
গতকাল গুলশান, বনানীর শপিংমলসহ আধুনিক সুপার স্টোরগুলোতে ঘুরে দেখা গেল ঈদের আগে হলেও ক্রেতাশূন্য সব দোকান। পিংক সিটির হাঙ্গার প্রজেক্টের উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট বিভাগের স্টলের ব্যবস্থাপক জোসেফাইন হক বললেন, আমাদের দোকানে বাংলাদেশি পণ্য থাকে। তাই বিদেশি ক্রেতাদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সেটা গত দুদিন ধরে একেবারেই নেই। প্রথমত শোক, দ্বিতীয়ত আতঙ্ক। এ কারণেই মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না।
 
গুলশান ২ নম্বরের সামনে ল্যান্ডমার্ক                 টাওয়ারের পাশের ফুটপাতে শার্ট-প্যান্টের বিক্রেতা রবিউল বললেন, ঈদের তিন দিন বাকি। এই সময় রাস্তায় দোকান বসাতে পারি না। আর সারাদিন পরে বিকাল পাঁচটার সময় বউনি করলাম। মানুষ নাই। ভয়ে কেউ বের হয় না বাসা থেকে।
 
গুলশান ২ নম্বরের ৫৫ নম্বর সড়কের সামনেই ক্যালিফোর্নিয়া ফ্রায়েড চিকেন এন্ড পেস্ট্রি শপ। এখানকার বিক্রেতা শাহিনূর বললেন, শনিবারে তো দোকান বন্ধ ছিল। আজ (গতকাল) বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি। মানুষজন বাসা থেকে বের হতেই ভয় পাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে সবাই আসে মূলত আড্ডা দিতে, খেতে।