ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ আঞ্চলিক সড়ক মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা সড়কের ৩৫ কি.মি দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এ ৩৫ কি.মি রাস্তা এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
যুগ যুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাত উপজেলাবাসীর চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ৪০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। স্বাধীনতার পর থেকেই সড়কটির দৈন্যদশা। বিভিন্ন সময় এটি প্রশস্ত ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজ বলতে কিছুই হয়নি। যা বরাদ্দ এসেছে কাজের নামে হয়েছে লুটপাট আর হরিলুট। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। ভালো যোগাযোগের অভাবে এলাকাবাসী উত্পাদিত ফসল, সবজি ও ফলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই টাকাও হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী ভালুকা এবং ত্রিশাল উপজেলার হাজার হাজার লোক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটির প্রশস্তকরণ ও সংস্কার না করায় এ সড়ক দিয়ে এখন যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির উপরের অংশ থেকে পিচ ঢালাই ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি জমে আছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সংস্কার না হলে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সড়কের করুণ দশায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগী প্রকৌশলী (সওজ) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে এবং কিছু কিছু রাস্তায় সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
