চৌহালীতে নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ২ হাজার অসহায় পরিবারের সদস্যদের জুটছে না স্বল্প মূল্যের একটি পোশাকও। ঈদের দিন তাদের ছেলে-মেয়েদের মুখে একটু সেমাই তুলে দেওয়াই দুষ্কর। বরং উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে লাখো মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ নয়, বিরাজ করছে ভাঙন আতঙ্ক। বর্তমানে এসব দুস্থ মানুষ পানতা আর চাল-পানি খেয়ে রাখছে রোজা, আর ইফতারী করছে শুধুই সাদা পানি দিয়ে।
দেশের অন্যতম নদী ভাঙন কবলিত চৌহালী ক্রমেই জনমানব শূন্য হয়ে যাচ্ছে। চৌহালীর সদর এলাকায় কিছুটা কাজ হলেও জোতপাড়া থেকে দক্ষিণে পাথরাইল পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নদীতে পানি কমা এবং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড স্রোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে ভাঙন সারা বছর কম-বেশি থাকছে অব্যাহত। তাই স্বাধীনতার পর থেকে যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বিপর্যস্ত এ উপজেলার লাখো মানুষ কিছুতেই এ দানবের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গত ৪০ বছরে প্রায় ৪০টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। আর গত এক বছরের ব্যবধানে ঘোরজান, খাসকাউলিয়া, বাঘুটিয়া, উমারপুর ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি, আর কয়েক হাজার একর আবাদী জমি হারিয়েছে। ভাঙনে বিলীন হয়েছে ২০টির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এসব সম্পদ হারানো নিঃস্ব মানুষ ভাঙনমুক্ত এলাকায় জায়গা কিনে বসবাসের সামর্থ্য না থাকায় তীরবর্তী এলাকাগুলোতেই কোনো রকমে টিন হেলে ও পলিথিন টাঙিয়ে বসবাস করছে।
ভাঙন কবলিত জোতপাড়া, কুকুরিয়া, মিঠুয়ানী, দেওয়ানগঞ্জ, শম্ভুদিয়া, পাথরাইল গ্রামের যমুনা তীরে আশ্রয় নেওয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর তেমন কোনো কাজ নেই। কেউ কৃষি শ্রমিক, ভ্যান শ্রমিক এবং দিনমজুরের কাজ করে চালাচ্ছে কোনো রকমে সংসার। তাও প্রতিদিন জুটছে না কাজ। বিস্তীর্ণ এলাকা ভেঙে সর্বত্র বিরাজ করছে হাহাকার।
চৌহালী উপজেলার জন্যে মাঝে মাঝেই আসে সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ। কিন্তু তা ওইসব মানুষের তেমন একটা ভাগ্যে জোটে না। এবারও ঈদ উপলক্ষে চৌহালীতে দুস্থদের জন্যে বরাদ্দ করা হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার ৪৭৩টি ভিজিএফ কার্ড। এসব কার্ড প্রতি দেওয়া হয়েছে ২০ কেজি করে চাল। তবে এবার অধিকাংশই যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল বারী।
এদিকে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ মণ্ডল চৌহালীর অসহায় ৩ হাজার মানুষের মাঝে নিজ উদ্যোগে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী এবং নগদ ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, নদী ভাঙনই আমাদের চৌহালীর প্রধান সমস্যা। এ সমস্যা লাঘবে ১২২ কোটি টাকার কাজ এডিবির অর্থায়নে চলছে। পর্যায়ক্রমে পুরো নদীর পূর্বপাড় আরিচা পর্যন্ত হবে এই বাঁধ। যা বাস্তবায়ন হলে আর নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হবো না।
