গুলশান হামলা : ঢাকা সফরে আসছে না অনেক ব্যবসায়ী

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৬, ১৫:১০
গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশের  নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে গার্মেন্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাংলাদেশে কর্মরত সেসব কোম্পানিদের বিদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। 
 
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হোটেলগুলোতেও অনেক রিজার্ভেশন বাতিল করা হচ্ছে। দূতাবাসগুলো তাদের কর্মী সংখ্যা কমানোর চিন্তা ভাবনা করছে।
 
শুক্রবার গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নয় ইতালিয়ান, সাত জাপনি, একজন মার্কিনী, একজন ভারতীয়্সহ ২০ জন নিহত হয়।মূলত সেই হামলার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সবাই। এবং একারণেই পূর্ব নির্ধারিত সূচি বাতিল করছেন।
 
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ২৬ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস শিল্প এই হামলার কারণে ধুঁকছে। তারা আশঙ্কা করছে একারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী পিছপা হতে পারেন।
 
বাংলাদেশের রফতানি খাতের ৮০ শতাংশই আসে গার্মেন্ট থেকে। এর মাধ্যমে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। চীনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রফতানি করে।
 
ইউনিকলো কোম্পানির ১০জন জাপানি বাংলাদেশে কাজ করেন। স্প্যারো গ্রুপের প্রধান শোভন ইসলাম বলেন, এই অবস্থাতে তারা খুবই চিন্তিত।
তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশে একজন বিদেশি হত্যা করার ঘটনার পরে অনেক বিদেশি বাংলাদেশে আসতে চাননি এবং ব্যাংককে বৈঠক করেন।
 
ভারতের গুরগাও ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ক্র্যাফটের প্রধান সুধীর ধিংরা বলেন, ‘এই ঘটনা নিঃসন্দেহে তৈরি পোশাক শিল্পে প্রভাব ফেলবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজের দূতাবাস বাংলাদেশে তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।
 
ঢাকার অন্তত দুটি ফাইভ স্টার হোটেলে বিদেশ থেকে বেশ কিছু রিজার্ভেশন বাতিল করা হয়েছে।
 
হোটেলের এক মুখপাত্র জানান, ‘আগে যেখানে দুই-তিন দিনের জন্য মানুষ হোটেল বুকিং দিতো। কিন্তু এখন কেউই বুকিং করছে না। ঈদের সময় এটা খুবই অস্বাভাবিক।’ দ্য গার্ডিয়ান