বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনা এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গোবিন্দপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী।
৮ জুলাই শুক্রবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৩২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর প্রায় পৌনে ২শ বছরের মধ্যে এটি প্রথম কোনো পুনর্মিলনী। তাই একে ঘিরে সবার মাঝে ছিলো বাড়তি আগ্রহ এবং উৎসাহ।
এ উপলক্ষে নতুনভাবে সাজানো হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে। ওই দিন সকাল থেকেই সাবেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহিমায় দেদীপ্যমান তারা এবং তাদের স্ত্রী সন্তানদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে মুখরিত।
সাবেক এই প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন প্রত্যেকে। দীর্ঘদিন পর একসসময়ের সহপাঠী এবং শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আলিঙ্গন করতে থাকে। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আখলাক আহমেদ। মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সে সময়ের প্রিয় শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম, মো. হরমুজ আলী, আবদুন নূর, মো.হাবিবুল ইসলাম, মো. হবিবুল্লাহ, মো. সামছুল হক।
অনুষ্ঠানের প্রথমেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. আখলাক আহমেদ। তিনি বলেন, গোবিন্দপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হচ্ছে অত্র এলাকার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা সংস্কৃতিতে নেতৃত্বদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এর মান মর্যাদা ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। আজ আমরা ৩০বছর পর মিলিত হয়েছি। শেখড়ের টানে আবার মিলতে হয়েছে। আমরা এখনো এই স্কুলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, একটি পুনর্মিলনী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করে। আজকের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন একটা অধ্যায় রচিত হলো।
IMG0
এছাড়া স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে মো. নুরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান, সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে, আন্দিউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আলী আজগর, অগ্রণী ব্যাংক মৌলভীবাজার জোনের ডিজিএম আশেক এলাহী, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার ডিডি আব্দুল জলিল। বক্তারা আজকের এই পুনর্মিলনী ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে করার প্রেরণা যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ও এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, কোরআন তেলাওয়াত করেন মো. আখতারুল আলম দুলাল। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ের কাজটি করেন মো. মাজহারুল ইসলাম ছবি এবং মেহের গাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এখলাছুর রহমান। বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন মঞ্জুর হোসেন, মো. জাকারিয়া, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরি শিমুল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত শিক্ষকদের সম্মাননা এবং ৮৬ ব্যাচের সবাইকে ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়।
