কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত এক যৌথ সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান। গুলশানে ও কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি, সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, মামুনুর রশিদ ও চিত্র নায়ক ফারুক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, উদীচীর নেতা মাহমুদ সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আগামী ১১ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'ওই দিন আপনারা জাতীয় পতাকা হাতে শহীদ মিনারে আসবেন, লক্ষাধিক মানুষের প্রতিরোধ সমাবেশ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিন যে বাংলার মানুষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের এসব সমর্থন করে না। সবাই সপরিবারে আসবেন।'
ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, 'এই হামলাকারীরা ধর্মের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের বিকৃত করছে। এরা যে ধর্মের অপব্যবহার করছে এটা পরিষ্কার। এটা কাজ তারা ঘোষণা দিয়ে করছে। এখানে লুকোচুরির বিষয় নেই। ধর্মের এই অপব্যাখ্যা তাদের মনের মধ্যে গেঁথে গেছে।'
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'আমরা গণতান্ত্রিক দল। আমরা যদি জনগণের কাছে উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র নিয়ে কাছাকাছি যেতে পারি তাহলেই আমরা সফল হব।'
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, 'জনগণ জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছে। সরকারই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ রুখবে, রুখেছে। জঙ্গিবাদে কোন স্থান বাংলার মাটিতে হবে না।'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অাস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, 'অতীতে আমার বেগম খালেদা জিয়ার আগুন সন্ত্রাস বন্ধ করতে পেরেছি। এখনও এই ধরনের হামলা প্রতিহত করতে পারবো। সাময়িক একটু কষ্ট হতে পারে। আপনারা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখুন।'
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার বিরোধী চক্রান্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল। আমরা তা কঠোর হস্তে দমন করেছি। এরপর শুরু হয় গুপ্তহত্যা। এটাও আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বন্ধ করবো।'
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবি করে মামুনুর রশীদ বলেন, এই যে গুলশান-উত্তরায় কোন সিনেমা হল নেই, একটা থিয়েটার নেই। এটা কেন? এটাও আপনাদেরকে ভাবতে হবে? আর কারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে এটা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের চুপ করে গেলে চলবে না। তাহলে এই ষড়যন্ত্র আরও বেড়ে যাবে। খবর- বাসস।
