দেশের জন্য একটি শিরোপা জয়ের স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইউরোর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সাঁ-দেনিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে রোনালদোর ফ্রান্স।
স্বপ্ন পূরণের বিষয়টি উল্লেখ করে রোনালদো বলেন, `ক্লাব আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমি সবকিছু জিতেছি, পর্তুগালের হয়ে কিছু জেতাটা হবে দারুণ এক অর্জন।'
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে এটা সম্ভব, আমার সতীর্থরাও তাই করে এবং পুরো দেশই এটা বিশ্বাস করে। আমাদের ভাবনাটা ইতিবাচক থাকতে হবে কারণ, আমি বিশ্বাস করি, রবিবারই প্রথমবারের মতো পর্তুগাল বড় কোনো শিরোপা জিতবে।’
ফেভারিটদের মধ্যে থেকেই এবারের টুর্নামেন্ট শুরু করে স্বাগতিক ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও নকআউট পর্বে অসাধারণ খেলে ফাইনালে উঠে দিদিয়ে দেশমের দল।
বিশেষ করে কোয়ার্টার-ফাইনালে আইসল্যান্ডকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিতে অসাধারণ ফুটবল খেলে তারা। এরপর সেমিফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-০ গোলে হারায় তারা। দুটি গোলই করেন ৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে বেশ এগিয়ে থাকা অঁতোয়ান গ্রিজমান।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ড্র করে সেরা চারটি তৃতীয় স্থানের দলের একটি হয়ে নক-আউট রাউন্ডে উঠে পর্তুগাল। শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল পায়নি। অতিরিক্ত সময়ে রিকার্দো কারেসমার গোলে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে তারা। এর পর পোল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেন রোনালদোরা।
সেমিফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষেই কেবল কিছুটা আলো ছড়াতে পারে তারা। ২-০ ব্যবধানে জেতা এই ম্যাচে অবশ্য ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেন রোনালদো। টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচেই নিজের ছায়া হয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড ওয়েলসের বিপক্ষে দলকে এগিয়ে দেওয়া গোলটি করেন। নানির করা অপর গোলটিতে সহায়তাও করেন তিনি।
ওয়েলসের বিপক্ষে দলের ভালো পারফরম্যান্স আর এ পর্যন্ত খেলা ৬ ম্যাচে তিনটি গোল পাওয়া রোনালদোর ফর্মে ফেরার ইঙ্গিতে উচ্ছ্বসিত পুরো পর্তুগাল দল। অধিনায়ক রোনালদোর সঙ্গে তার সতীর্থরাও এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী।
ফ্রান্সের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আর পরিসংখ্যান অবশ্য পর্তুগালের পক্ষে কথা বলে না। এই নিয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে চতুর্থবারের মতো দেখা হতে যাচ্ছে পর্তুগাল-ফ্রান্সের। আগের তিনটি ম্যাচই ছিল সেমিফাইনালে-১৯৮৪ ও ২০০০ সালের ইউরো আর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে। তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল পর্তুগাল। সবশেষ ১০টি লড়াইয়ের সবকটি ম্যাচেই পর্তুগালের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ফ্রান্স।’
