গুলশানে অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রেস্টুরেন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৬, ২১:১১
সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নগরীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত অনুমোদন বিহীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট ও হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
 
শিল্পমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রীসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, 'বিদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'
 
রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং অন্যান্য রপ্তানি সংশ্লিষ্ট জায়গায় ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'যেকোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।'
 
তিনি আরও বলেন, 'জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। কমিটির সভায় রাজধানীর গুলশানে এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সাম্প্রতিক হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি, সফল অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
 
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘটনা প্রচারের জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মাত্র কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করলেও গুলশানের ঘটনা সারাদিন ধরে সম্প্রচার করা হয়।'
 
তিনি বলেন, 'জাতীয় স্বার্থেই দেশী গণমাধ্যমের সবকিছু সম্প্রচার করা উচিত নয়। নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদেরকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।' জঙ্গিরা নিজেদের মতবাদ প্রচারের জন্য পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করছে উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু জুম্মার নামাজের খুতবা ও ওয়াজে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দানের জন্য ইমামদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, 'ইমামদের ওয়াজ ও খুতবা মনিটর করা হবে।'
 
সমাজের সকল স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, 'এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সামাজিক সচেতনতা আবশ্যক।'
 
সভায় অন্যান্যের মধ্যে- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর- বাসস।