প্রতি শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা এবং বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করা ওয়াজ মাহফিলে দেয়া বক্তব্যের ওপর নজরদারি করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। সরকার মনে করছে খুতবা ও ওয়াজ মাহফিলের সুযোগ নিয়ে কেউ ইসলাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারেন এবং তা নিয়ে কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিসি ও ইউএনওকে ইতিমধ্যে চিঠিও দেয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সভার সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা জানান। তিনি জানান, বেসরকারি টেলিভিশন (পিস) ধর্ম প্রচারে বিতর্ক সৃষ্টি করছে এই অভিযোগে বাংলাদেশে এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ব্রিটেন, আমেরিকায় চ্যানেলটি নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশেও। ভারত গত পরশু থেকে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে ৯টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
প্রসঙ্গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়। গুলশান হামলার ক্ষত না শুকাতেই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের মাঠের কাছে ফের সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ওই বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক প্রভাবে’ গুলশান-বনানীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরানো যাচ্ছে না পুলিশের এ রকম কারণকে অমূলক আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৈঠকে বলেন, যতবড় ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিষয় জড়িত থাক নিরাপত্তার প্রশ্নে তা দেখা উচিত হবে না। প্রভাব খাটিয়ে কেউ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিলেও তা বাতিল করতে হবে। শুধুমাত্র কিছু সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান ছাড়া এসব আবাসিক এলাকায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে না। ইত্তেফাককে এ কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের কী অফিস আছে কার মদের দোকান আছে কী স্কুল কলেজ আছে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার অবকাশ নেই।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দেশীয় বেসরকারি টেলিভিশনের সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আর গুলশান হত্যাকাণ্ডে সিএনএনের দীর্ঘক্ষণ প্রচার নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে ওই বৈঠকের আলোচনায়। প্রস্তাব উঠেছে গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। বলা হয়েছে হোটেলে জঙ্গিরা যেহেতু প্রযুক্তির সহায়তায় বিদেশে তথ্য আদান-প্রদান করেছে তা হলে আমাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থা সে ক্ষেত্রে কী দায়িত্ব পালন করেছে।
ওই বৈঠকে বলা হয় দেশে আইএস নেই এ কথা সত্য। এ দেশে তারা কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা অন্যান্য সহায়তার সুযোগও পাচ্ছে না। কিন্তু গুলশান হামলার পর এ কথা নিশ্চিত যে আনসার উল্লা বাংলাটিম ও জেএমবি তারা আইএস না হোক কোন কোন আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তা পাচ্ছে বা তাদের সঙ্গে এদেশীয় জঙ্গির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে আইএস নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে কথা-বার্তা বলা প্রয়োজন বলেও বৈঠকে মতামত ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে জঙ্গিরা যাতে সহজে জামিন না পায় সে জন্য সরকারি আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একইসঙ্গে মামলা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত জঙ্গি সংক্রান্ত ৩৭টি মামলা হয়েছে এবং ১৪টির চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাবেলা, ইটালি ও জাপানি নাগরিক হত্যা মামলা রয়েছে।
বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এ ছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।
