নওগাঁর রাণীনগর থেকে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ মিতু আক্তারকে (১৩) বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাহীন (২২), মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে সোহেল (২৮), আবুল কালাম আজাদের ছেলে সোহেল রানা (১৮), ভবানীপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (১৮)। গ্রেফতারকৃতদের সোমবার দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা ভবানীপুর গ্রামের মোশারফ সরদারের মেয়ে মিতু আক্তার কুজাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করার সময় গ্রেফতারকৃত আসামি শাহীন রাস্তা-ঘাটে তাকে উত্যক্ত, অশালিন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি মিতু তার বড় ভাই মহিদুল ইসলামকে জানালে সে শাহীনকে নিষেধ করে। তখন থেকে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে মিতুকে মাঝে-মধ্যে অপহরণের হুমকি দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে মিতু তার বাবার বাড়ি ভবানীপুর গ্রাম থেকে কুজাইল বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ার উদ্দ্যেশে আসলে পথিমধ্যে বিদ্যালয়ের পাশে পাকা রাস্তার মোড়ে পৌঁছা মাত্রই গ্রেফতারকৃত আসামিরা কৌশলে মিতু আক্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখোঁজি করে সন্ধান না পেয়ে থানায় মিতুর ভাই মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করে। রাণীনগর থানার এসআই শফিকুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফোর্স নিয়ে রবিবার রাতে বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা শাহীনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খান জানান, মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অপহৃতাকে উদ্ধারসহ এজাহার নামীয় ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত আছে প্রয়োজনীয় তদন্ত স্বাপেক্ষে সবাইকে আইনের আওয়তায় আনা হবে।
