সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তি শিল্পী হাসান আরিফ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজিদুল হক, বাসদের সমন্বয়ক রেজাউর রশীদ খান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, স্বাচিপের মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ কামাল, আওয়ামী লীগ নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও বাহাউদ্দিন নাছিম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ডা. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, গণ আজাদী লীগের এস কে শিকদার, আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুর সবুর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোরশেদ প্রমুখ। সমাবেশে ১৪ দল শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, মীর হারুনুর রশীদ, এম এ কাইয়ুম, খন্দকার শাহীন আলদ্বীন রিজভী, এম. সালাউদ্দিন আহমেদ, আমিনুল ইসলাম তপন, জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, মাহফুজুর রহমান, অকিল উদ্দিন ওকাল, জেড সেলিম ও মঞ্জুর হাবিব প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আয়োজিত প্রতিরোধ সমাবেশ থেকে গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠনের মাধ্যমে দেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের নির্মূলের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জোটের শরিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, কৃষক, শ্রমিক, নারী, ছাত্র, যুবক, তরুণসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকাজুড়ে এক উদ্দীপনাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ঢাকায় আগামী ২০ জুলাই অভিভাবক সমাবেশ ও ২১ জুলাই নারী সমাবেশ। সন্তানদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অভিভাবক ও নারীদের সচেতন করতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ জুলাই থেকে রংপুর, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও কুমিল্লাসহ পর্যায়ক্রমে সারাদেশে জঙ্গিদের খুঁজে বের করারও কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করবই। তিনি বলেন, এখন সরকারের বিরোধিতা করার সময় নয়। এটি সরকারের সমালোচনা করারও সময় নয়। এটি সরকারকে সহযোগিতা করার সময়। জঙ্গিবাদকে পরাজিত করতে আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন। ইতোমধ্যে সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিত্সকসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। ১৪ দল সমন্বয়ক বলেন, ‘এতদিন অনেকে নিখোঁজ হয়েছে, তখন আপনারা বলেছেন র্যাব গুম করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে তারা আমার বাংলার মানুষকে খুন করছে। খালেদা জিয়া, আপনি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে চান। প্রাক্তন শিবির কর্মীরা জঙ্গি হয়েছে।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া আবার অভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু তা কখনো সফল হবে না। তিনি বলেন, যারা ইহুদিদের টাকা খায় এবং পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের সঙ্গে কখনো ঐক্য হতে পারে না। যারা বাংলাদেশে খবরদারি করতে আসে, তাদের কথায় আমরা চলবো না। আমরা উন্নয়ন ও শান্তির পথে থাকব। জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করবোই। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ১৪ দল শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশ যখন আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে তখন খালেদা জিয়া নির্বাচনের কথা বলছেন। এটা কি মামার বাড়ির আবদার!
১৪ দল শরিক জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমানে যে ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে, এর শুরু কোথায়? এসব ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে। আগুন সন্ত্রাস যারা করেছেন, তারাই একের পর এক ধারাবাহিক আক্রমণ করছেন। তিনি বলেন, এসব আক্রমণের সঙ্গে ধর্মের বা ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা ইসলামের ক্ষতি করছে। ৭১’র পরাজিত শক্তি এরা। এদের ৭১-এ পরাজিত করেছি, এখনো করবো। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, মোসাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের পরেই দেশে জঙ্গি হামলা বেগবান হয়েছে। ১৪ দল শরিক জেপি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সারাদেশে জেগে উঠেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনতা জঙ্গিবাদকে রুখে দেবে।
তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ও ৩১ দলীয় জোট বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্সের প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সমাবেশে যোগ দিয়ে ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার কথাকে কেন আপনারা গুরুত্ব দেন? তার কথা গুরুত্ব দেয়ার কী আছে? তার কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে আপনারা আপনাদের কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যান। আমরা আপনাদের পাশে আছি। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এদেশ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন; কিন্তু এখন একদল সন্ত্রাসী অরাজকতা করছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার দিন খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান থেকে টেলিফোন করা হয়েছিল। তারেক রহমানের কর্মচারী পরিচয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান হামলার দিন পাকিস্তান ও লন্ডন থেকে টেলিফোন করা হয়, হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া জড়িত- এটা কি প্রমাণ করে না? জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, গুলশানের ঘটনার রাতে খালেদা জিয়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া দেশবাসী বা নগরবাসীর নিরাপত্তা চাননি। নিজের কথা ভেবেছেন।
