রাজধানীর পুরান ঢাকায় চলছে সরকারের মালিকানাধীন অর্পিত সম্পত্তি দখলের হিড়িক। জাল-জালিয়াতি ও পেশীশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বেহাত হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সরকারি সম্পত্তি। অথচ এসব দেখার যেন কেউ নেই।
পুরান ঢাকার একটি প্রভাবশালী মহল এ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। সংঘবদ্ধ এই চক্র ইতোমধ্যে প্রায় কয়েকশ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। এর কোনো কোনোটি বহুতলা ভবন নির্মাণ করে দোকান ও ফ্ল্যাট আকারে বিক্রিও করে দিয়েছে তারা।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অপকর্ম চললেও তাতে প্রশাসনের কোনো তত্পরতা নেই। বরং সম্পত্তি দখলে সহযোগিতা করছেন জেলা প্রশাসক অফিসেরই কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অর্পিত সম্পত্তি শাখার কর্মচারী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সরেজমিনে নবাবপুর, সূত্রাপুরসহ আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখলের এমন চিত্র দেখা যায়। পুরান ঢাকার নবাবপুরে অর্পিত সম্পত্তি একের পর এক দখল করে নিচ্ছে চিহ্নিত একটি চক্র। সরকারি এসব সম্পত্তির জাল দলিল বানিয়ে চক্রটি লিজ গ্রহীতাদের কাউকে জোর করে, আবার কাউকে ম্যানেজের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে সেখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে এবং করছে।
জানা গেছে, নবাবপুর রোডস্থ ২৩৪ ও ২৩৫ নং হোল্ডিংয়ের প্রায় পৌনে এক বিঘা আয়তনের গেজেটভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি এই চক্রটি দখল করে নিয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দু’শ কোটি টাকা। এই সম্পত্তি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন জনের কাছে লিজ দেয়া ছিলো। কিন্তু বৈধ লিজ গ্রহীতাদের কাউকে জোর করে, কাউকে ম্যানেজ করে পুরোটা এরা দখল করে নিয়েছে। পুরাতন ভবন ভেঙ্গে এই সম্পত্তির ওপর রাজউকের অনুমোদন ছাড়া সাত তলা ভবনও নির্মাণ করে দোকান ও ফ্ল্যাট আকারে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, একই চক্র নবাবপুর রোডেই দখল করে নিয়েছে আরো কয়েকটি অর্পিত সম্পত্তি। তারা ৮৩নং নবাবপুর রোডস্থ অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি কেস নং ১৩০৮/৬৩) দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। এছাড়া তারা নবাবপুর রোডের ২২৯ নং হোল্ডিংয়ের সম্পত্তি দখল করে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করে বিক্রি করে দিয়েছে।
নবাবপুরের ২২২নং প্লট দখল করে টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে। নবাবপুর রোডের ৫৬ ও ৫৭ নম্বরের দুটি প্লট দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। ৫০ নম্বর নরেন্দ্র বসাক লেনের প্লটটিও একই চক্র দখল করে নিয়েছে সমপ্রতি। এর পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবনের বেজমেন্টের কাজ চলছে। এই প্লটগুলো সবই গেজেটভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি।
জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে এ চক্রের হোতা ইতোপূর্বে র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ ধরাও পড়েছিল। তার সঙ্গে ধরা পড়েছিল কয়েকজন সহযোগী। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা, এমনকি হুলিয়াও আছে বলে জানা যায়। কিন্তু, পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এদিকে নজর নেই।
এদিকে সূত্রাপুরের আরএস দাস রোডের (ভূষির গলি) ৮৮, ৯৬ ও ৯৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের ৩২ কাঠা অর্পিত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে স্থানীয় আরেকটি প্রভাবশালী চক্র।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখলের এই মহোত্সব এখনই ঠেকানো না গেলে আর কোনো সরকারি সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে না।
এ ব্যাপারে ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, অর্পিত সম্পত্তি বেহাত হওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
