হুমকির মুখে উপকূলীয় বনাঞ্চল

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ১৫:৫৩

প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরবনের আদলে সৃষ্ট বরগুনার উপকূলের সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলো। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিদিনই সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে বনের গাছ, কমছে আয়তন। এসব বন রক্ষা করতে না পারলে দক্ষিণাঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
 
বন বিভাগের তথ্য মতে, ১৯৬০ সালে ১৩ হাজার ৬৪৭ দশমিক তিন একর আয়তনের টেংরাগিরি বনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। গত ছয় দশকে সেই বনের আয়তন বাড়েনি। সাগরে বিলীন হয়েছে প্রায় দুই হাজার একরেরও বেশি এলাকা। হারিয়ে গেছে প্রায় দশ লাখ গাছ। 

পরিবেশ আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ বলেন, একদিকে সাগরের তীব্র ভাঙন অন্যদিকে বন দস্যুদের অবাধে গাছ কাটার কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার বনাঞ্চল।

উপকূলীয় এলাকার সংরক্ষিত বন রক্ষা কমিটির সভাপতি হাছান ঝন্টু বলেন, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বন দস্যুদের কাছে বনের গাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় সংরক্ষিত বনের গাছ বিক্রি করার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বনরক্ষীরা। এমন ঘটনায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতাই দায়ী।

বন কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। জনবল সংকটে গাছ কাটা থামানো যাচ্ছে না। টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিট কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন প্রামাণিক বলেন, বন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সরকারিভাবে এখানে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। বরগুনা উপকূলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে নতুন করে বনায়নের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ।

বরগুনা সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, প্রাকৃতিক কারণে যেখানে বন ভেঙ্গে যাচ্ছে সেখানে শেল্টার বেল্ট স্বরূপ আমরা চরে বনায়ন করছি। সমুদ্রে সাইক্লোন আসলে এগুলো প্রতিরোধ করবে। ফলে ভাঙ্গন আস্তে আস্তে প্রতিরোধ হবে। আমাদের লোকবল কমের কারণে এত বড় বনভূমি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছি।

আরো পড়ুন: সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের আরো অবনতি

এ বিষয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ শাহ আলম বলেন, সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রের পানির সঙ্গে পলিমাটি যুক্ত জোয়ারের পানি বনের মধ্যে প্রবেশ করছে। এতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের শ্বাসমূল দীর্ঘ সময় ঢেকে থাকার কারণে অনেক গাছ মারা যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে না পারলে বায়োডাইভারসিটি হারিয়ে ফেলবো। নতুন গাছ লাগাতে হবে, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে আমরা বড় দুর্যোগ ঠেকাতে না পারলেও ছোট গুলো ঠেকাতে সক্ষম হবো।

ইত্তেফাক/অনি