বর্ষা মৌসুম এলেই মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলে নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধূম।
এই মৌসুমে জেলার ঘিওর ও দৌলতপুরের ১৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নৌকার কদর বেড়েছে। এ সব এলাকার মানুষ জেলার বৃহত্তর ঘিওর হাটে ভিড় করছেন নৌকা কিনতে।
ঘিওর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম ও দৌলতপুরের দুর্গম এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা সম্ভব হয় না। তাই বর্ষা আসার আগেই ঘিওর ও দৌলতপুর এলাকার কাঠ মিস্ত্রীরা নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের মালামাল এবং জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র বাহন হিসেবে নৌকার ব্যবহার দীর্ঘদিনের।
নৌকা শিল্পের জন্য বিখ্যাত ঘিওরের কারিগড়দের তৈরি নৌকা স্থানীয় উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মিস্ত্রী পাড়ায় নারী-পুরুষ।
বর্ষার আগমনে মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে। এ সময় এ সব অঞ্চলের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠে নৌকা।
অন্যান্য বছরের মতো এবারো বর্ষার শুরুতেই ঘিওর উপজেলা সদরের প্রধান ঈদগাহ মাঠে নৌকা বিক্রির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। উপজেলা সদরের ওই হাটে ক্রেতাদের জন্য থরে থরে সাজানো অবস্থায় দেখা মেলে বাহারি রকমের কয়েকশ নৌকা।
সপ্তাহে প্রতি বুধবার হাটের দিন হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রেতারা নৌকাগুলোকে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখেন। এছাড়াও প্রায় সারা সপ্তাহজুড়েই কম বেশি বিক্রি হয় ওই নৌকাগুলো। ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা খগেন সূত্রধর জানান, লম্বায় ১০ হাত এবং পাশে ২ হাত সাইজের একটি নৌকার বিক্রয় মূল্য তিন হাজার থেকে বত্রিশ শ টাকা। এ রকম ১১/৩ সাইজেরটি চার হাজার, ১২/৩ সাইজের চার হাজার পাঁচ শ টাকা, ১৩/৩ সাইজের পাঁচ হাজার, ১৪/৩ সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রিয় করেন ছয় হাজার টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের স্টিলের নৌকা বিক্রিয় করে থাকেন তিনি।
