অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপে জাতিসংঘের আহ্বান

দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাতে মার্কিন হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৬, ০৩:০৪
দক্ষিণ সুদানে সম্প্রতি সংগঠিত সহিংসতা ‘অবশ্যই বন্ধ’ করতে হবে। এছাড়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা যারা বাধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে পুরোপুরি দায়িত্ব নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার পরও রাজধানীতে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
 
ওদিকে দেশটিতে অতিসত্বর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। শান্তিরক্ষা বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে হেলিকপ্টার হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির সাধারণ জনগণকে বাঁচাতে জাতিসংঘ মিশনকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। দেশটিতে সহিংসতায় চীনের ২ জন এবং দক্ষিণ সুদানের একজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছে। ওদিকে হোয়াইট হাউস সতর্ক করে জানিয়েছে, শান্তি প্রচেষ্টা যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে তাকেই এর দায় নিতে হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস বলেছেন, এটি অর্থহীন ও অমার্জনীয় সংঘর্ষ। এই সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা দেশ এবং নাগরিকদের কল্যাণ নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সুদানি জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ গত ৫ বছর যাবত্ এখানকার জনগণ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। 
 
গত শুক্রবার থেকে প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক ম্যাচারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে সোমবার স্থানীয়  রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট কির এক ঘোষণায় বলেন, “আমি যুদ্ধবিরতি রাত ৮টা থেকে ঘোষণা করতে চাই।” তবে এ ঘোষণা আসার পরও রাজধানীতে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। তাই পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল কিনা সেটি স্পষ্ট নয়।
 
সাম্প্রতিক এ সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। শত শত মানুষ জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। জেবেল ও টমপিং ঘাঁটিতেও অনেকে আশ্রয় নিয়েছে। ঐদিন বিকেলে এক সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিরের অনুগত বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশনা মানবে না তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। দেশটিতে দু’বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি শান্তিচুক্তি হয়। কিন্তু সেই চুক্তির ভবিষ্যত্ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।