মুন্সীগঞ্জের চরবলাকিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে দুই ভাই নিহত এবং অপর ১০ জন আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন উপজেলার হোসেন্দী ইউপির নবনির্বাচিত মেম্বার গোলাপ সরকার (৪৫) ও তার ভাই আইয়ুব সরকার (২৮)। নিহতদের লাশ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আহতাস্থায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আহত পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পাঁচজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতাল থেকে আমিরুল (২০) ও ডালিম (২৫) ঢাকায় পাঠানো হয় এবং বাকী তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সবুজ (১৯), ফারুক (২০) ও আলমগীর (২৫)।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, হোসেন্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্টু এবং বিবদমান নাজমূল গ্রুপের সঙ্গে সন্ধ্যায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে বন্দুক যুদ্ধ শুরু হয়। এতে গুলিবিদ্ধ দু’জনকে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও প্রস্তাবিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাটি ভরাটের কাজের হিস্যা নিয়ে মেঘনা তীরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের গ্রামটিতে এই সহিংসতা বাধে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা জানান, দু’পক্ষই সরকারী দল আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক। তবে এই সহিংসতা রাজনৈতিক বা দলীয় বিষয়ে নয়। সহকারী পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েসী রাত সোয়া ১১টায় ঘটনাস্থলে পৌছে জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গ্রামটিতে থমথমে এবং ভুতরে পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরীহ গ্রামবাসীরা ফের সহিংসতার আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। আর প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রেফতারের শঙ্কায় বাড়িঘরে নেই। গোলাপ সরকারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
