ভারতের পুনের খাদাকওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির ডাইনিং হলে ঢোকার মুখেই একটি ছোট ডাইনিং টেবিল সাজানো যার সামনের দিকে ঝোঁকানো একটি মাত্র চেয়ার। টেবিলের উপরে দু’টি ছোট প্লেট, একটি গ্লাস, একটি ছোট ফুলদানিতে একটা মাত্র গোলাপ। সঙ্গে একটি সাধারণ চামচ এবং একটি কাঁটাচামচ।
সব মিলিয়ে একজনকে আপ্যায়ন করার মতো ব্যবস্থা। টেবিলটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে কখনো না ফেরা ৫৪ ভারতীয় সেনার অপেক্ষা করছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সহায়তা করেছিল। যুদ্ধে তাদেরও স্বীকার করতে হয়েছে ত্যাগ-বহু ভারতীয় সেনা প্রাণ দিয়েছেন, হয়েছেন যুদ্ধবন্দী।
যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ৫৪ ভারতীয় সেনা কোনোদিনই ফেরেননি। তাদের জন্যই ভারতের খাদাকওয়াসলার ডাইনিং হলের এই সাজানো টেবিল অপেক্ষা করছে। সম্প্রতি ভারতের সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে বলা হয়, টেবিলটি সেনাবাহিনীর ভুলে যাওয়া যুদ্ধবন্দীদের স্মরণে- এই আশায় যে তারা একদিন ফিরবে (১৯৭১ সালের ৫৪ যুদ্ধবন্দী কখনো ফেরেনি)।
টেবিলের ফুলদানিতে রাখা একটি গোলাপ নিখোঁজ সেই সেনা সদস্যদের পরিবার এবং প্রিয়জনদের জন্য, যারা আজও বিশ্বাস করেন, ৪৫ বছর ধরে তাঁদের পরিবারের নিখোঁজ সদস্যটি একদিন ঠিক ফিরে আসবেন।
টেবিলের উপরে ছোট প্লেটটিতে রাখা লবণ নিখোঁজ সেনাদের প্রিয়জনদের চোখের জলের প্রতীক। প্লেটে রাখা লেবুর টুকরাটি তাদের দুর্ভাগ্যের কথা স্মরণ করাবে আমাদের। গ্লাসটি উল্টো করে রাখা, কারণ নিখোঁজ সেনারা ফিরে এসে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেননি।
পোস্টের শেষে বলা হয়, স্মরণ করো! যারা তাদের সঙ্গে লড়াই করেছ এবং কমরেড বলে ডেকেছ। স্মরণ করো সেদিন পর্যন্ত যতদিন না তারা ঘরে ফিরে আসে।
