২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মিত্র ছিলেন। কিন্তু ওই বছর তুরস্ক সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এই বিরোধের জেরে তুর্কি সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুলেনপন্থি বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও যাদের সঙ্গে গুলেন সমর্থকদের সম্পর্ক আছে বলে খবর রটে তাদের বের করে দেয় এরদোয়ান সরকার। বর্তমানে তুরস্কের শীর্ষ ফেরারি সন্ত্রাসীদের তালিকায় গুলেনের নাম আছে। তুর্কি কর্মকর্তারা তাকে ‘গুলেনপন্থি সন্ত্রাসী সংস্থার’ নেতা বলে অভিহিত করে। তুরস্ক গুলেনকে ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী তত্পরতার জন্য গুলেন বা তার কোনো অনুসারীকে অভিযুক্ত করেনি তুরস্কের কোনো আদালত। শুক্রবার রাতে যখন সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন তুর্কি সরকারের পক্ষে কাজ করা আইনজীবী রবার্ট আমর্স্বার্ডাম বলেন, গুলেনপন্থিদের সরাসরি জড়িত থাকার ইঙ্গিত আছে।
তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েপ এরদোয়ান। গতকাল শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেইনিয়ায় বসে এই সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র হয়েছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রে তুরস্ক ভীত নয়। পেনসিলভেইনিয়ায় বসে তুরস্ককে শাসন করা যাবে না।
অন্যদিকে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদারকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, গুলেনের অনুসারী সেনারা এই অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে গুলেনের হিজমেত আন্দোলন এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ধরনের অভিযোগকে ‘অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, হিজমেত আন্দোলন সামরিক হস্তক্ষেপকে সমর্থন করে না।
সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ উত্থাপনের পর থেকেই শুরু হয়েছে ফেতুল্লাহ গুলেনকে নিয়ে জোর আলোচনা। তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। পেননিলভেইনিয়া অঙ্গরাজ্যের সেইলর্সবার্গে বসবাসরত গুলেন ইসলামের হানাফি মাজহাবের অনুসারী। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে ১৯৪১ সালের ২৭ এপ্রিলে জন্ম নেওয়া গুলেন একজন সাবেক ইমাম এবং লেখক। তিনি গুলেন আন্দোলনের জনক। তুরস্কে এই আন্দোলন হিজমেত আন্দোলন নামে পরিচিত। তুর্কি শব্দ হিজমেতের বাংলা প্রতিশব্দ জনসেবা।
গুলেন নিজেকে বিজ্ঞান, আন্তঃধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিতর্ক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলে দাবি করেন। তুরস্কের ভবিষ্যত্ ও আধুনিক বিশ্বে ইসলাম নিয়ে তৈরি হওয়া সামাজিক বিতর্কের তিনি এক সরব বক্তা। বিদেশি কিছু গণমাধ্যমে গুলেনকে ‘ইসলামের সহনশীল ধারার পক্ষপাতী’ এবং ‘কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষার’ অনুরাগী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে বিশ্বের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম ব্যক্তিত্ব’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে ওই গণমাধ্যমগুলো।
