সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই মহাদেশের জনগণের স্বার্থে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আসেম নেতাদের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার এশিয়া-ইউরোপ সম্মেলন (আসেম) শেষ হয়েছে। মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাতরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বলা হয়, ‘অনানুষ্ঠানিক আলোচনা থেকে বাস্তব ফলাফল পেতে উদ্যোগসমূহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে, সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা দমন, সমুদ্রসীমা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, জলদস্যুতা ও সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতির পাশাপাশি মানব পাচার ও মাদক চোরাচালান, সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের মত বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থের প্রতি আসেম গুরুত্ব দেবে।’ সম্মেলনের শেষদিনে গৃহীত ঘোষণাপত্রে আসেম নেতারা একথা বলেন। সকালে উলানবাতরে সম্মেলনে সমাপনী অধিবেশনে আসেম সদস্যভুক্ত দেশের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অ্যান্ড ইউরোপিয়ান কমিশন এবং এএসইএএন সেক্রেটারিয়েট প্রধানগণ এ ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করেন। আসেম-এর অন্য নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অধিবেশনে যোগ দেন। আসেম সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ ঘোষণাপত্রে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং আরো যোগাযোগ, পারস্পরিক স্বার্থে অংশীদারিত্ব এবং এশিয়া ইউরোপের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারা টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতিসংঘ সনদের নীতি অনুসরণ, আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার দুর্নীতি, অভিবাসন, ২০৩০ সাল নাগাদ এজেন্ডা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা, খাদ্য, পানি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থল ও সমুদ্র সম্পদ এবং অবৈধ, অনির্দেশিত ও অননুমোদিত মাছ শিকার, শিক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, ব্লু ইকোনমি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উদারীকরণ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, পরিবহন, এমএসএমইস সহযোগিতা, সকল খাতে সক্ষমতা অর্জন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি ভবিষ্যতে আরো গুরুত্ব দেয়া হবে।
যেসব বিষয়ে আসেম’র যথাযথ মূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকবে তা সম্পাদন করার মাধ্যমে এর লভ্যাংশ দুটি অঞ্চলের জনগণের কাছেই পৌঁছানোর ওপর নেতৃবৃন্দ গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জনগণের শান্তি এবং স্থিতিশীলতার অন্বেষণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং একটি মানসম্পন্ন জীবনের তাগিদে আসেম এর তিন স্তম্ভের সম্প্রসারণ ঘটাবে।
সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আসেমের গুরুত্ব ও অস্তিত্ব তুলে ধরতে একটি আসেম দিবস নির্ধারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এবং প্রতি বছর ১ মার্চ বা মার্চের প্রথম সপ্তাহে যে কোনোদিন এটা উদযাপনের সুপারিশ করেছেন।
’২০ ইয়ারস অব আসেম: পার্টনারশিপ ফর ই-ফিউচার থ্রো কানেকটিভিটি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শাংরি-লা হোটেলে দু’দিনব্যাপী ১১তম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলন (আসেম) অনুষ্ঠিত হয়।
১১টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টগণ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩টি দেশের প্রধানমন্ত্রিগণ, ১৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রিগণ এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতিদ্বয় ও আশিয়ানের সেক্রেটারি জেনারেল এই সম্মেলনে অংশ নেন।
