ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যা মামলার চার্জশিট গৃহীত হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামি ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুম ও সোহেল ওরফে ভাঙ্গাড়ি সোহেল পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সাব্বির ইয়াসির আহমেদ এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে পলাতকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পলাতকদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেন।
গত ২৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্তরা হলেন কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগনে রাসেল ও শাখাওয়াত হোসেন ও সোহেল। আসামিদের মধ্যে মতিন ছাড়া অন্যরা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা সবাই কারাগারে আছেন।
চার্জশিটে বলা হয়, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনামতে ভাঙ্গাড়ি সোহেলের কাছ থেকে পিস্তল ভাড়া নিয়ে খুনিরা তাভেলাকে হত্যা করে। কমিশনার কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিনের নির্দেশে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শাখাওয়াতের মোটরসাইকেল নিয়ে মিনহাজুল, তামজিদ ও রাসেল চৌধুরী গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়কে যান।
ওই সড়কের গভর্নর হাউসের সীমানা প্রাচীরের বাইরে ফুটপাতে নিরিবিলি ও অন্ধকার স্থানে তামজিদ গুলি করে তাভেলা সিজারকে (৫১) হত্যা করে। এতে তাঁকে সহায়তা করেন রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল। মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন মিনহাজুল।
আরো বলা হয়, বিএনপির নেতা এম এ কাইয়ুমের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে তাভেলা সিজারকে হত্যা করা হয়। কাইয়ুম পরিকল্পনা করলেও সেটা বাস্তবায়ন করেন তাঁর ছোট ভাই আবদুল মতিন। মামলার আলামত হিসাবে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। তবে পিস্তল সরবরাহকারী ভাঙ্গারী সোহেল গ্রেপ্তার না হওয়ায় পিস্তলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পিস্তলটি না পেলেও ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
৫০ বছর বয়সী তাভেলা সিজার আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডি কো-অপারেশনের ‘প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান ২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কের ফুটপাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তাভেলা সিজার। ঘটনার পরদিন রাতে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইসিসিও কো-অপারেশনের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি হেলেন সাফ ভ্যান ডাক বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন
