'সরকার ফিটনেসবিহীন নৌযানের শুমারি প্রকল্প গ্রহণ করেছে'

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৬, ২১:৩৬
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, 'নৌ-দুর্ঘটনা রোধে সরকার সারাদেশে ফিটনেসবিহীন নৌযানের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য নৌ-শুমারি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।'
 
তিনি বলেন, 'কোনো নৌযান স্থায়ীভাবে চলাচলের অযোগ্য ঘোষণার তালিকা এখন পর্যন্ত সরকারের হাতে না থাকায় সরকার এই প্রকল্পের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।' মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 
মন্ত্রী বলেন, 'কোনো নৌযানে ত্রুটি পাওয়া গেলে সেটাকে ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেয়া হয় না। তবে চিহ্নিত ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় সার্ভের মাধ্যমে সন্তোষজনক বিবেচিত হলে সেটাকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।'
 
তিনি বলেন, 'সারাদেশে ৯২৩টি যাত্রীবাহীসহ মোট ১০ হাজার ২৯৬টি নৌযান চলাচল করছে। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র সময়সূচী অনুযায়ী নিয়মিত ৬৯৫টি যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করছে।'
 
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, 'নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করে এ ধরনের নৌযানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর বিধান অনুযায়ী নৌ-আদালতে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।' লোকবল বৃদ্ধির মাধ্যমে নৌযানের ফিটনেস মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
 
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের নৌযানে আধুনিক সেফটি ইকুইপমেন্ট স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি দলের সদস্য ডা. মো. এনামুল রহমানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নৌপথের দৈর্ঘ্য বর্ষাকালে ২৪ হাজার কিলোমিটার। তা শুষ্ক মৌসুমে ৬ হাজার কিলোমিটার কমে আসে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে ১০ হাজার ২৯৬ বিভিন্ন ধরনের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত নৌযান চলাচল করছে।
 
জাতীয় পার্টির সদস্য সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার হারিয়ে যাওয়া নৌ-পথকে পুনরুজ্জীবিত ও জনপ্রিয় করার জন্য বিশ্বব্যাংকের তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১' গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অনুকুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করেছে। দ্রুত আগামী যে কোনো সময়ের মধ্যে ঋণচুক্তি সই করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। খবর- বাসস।