সেতার থেকে গিটার, তবলা থেকে ড্রামস। যুগে যুগে বাংলার গানে পাল্টেছে ধারা। তরুণদের আগ্রহেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। তবে এখনো অনেকে ভালোবাসেন বাংলার আদি সুরকে। এখনো নিজের মাঝে লালন করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে।
বাংলার আদি সুরকে ভালোবেসে, শাস্ত্রীয় ধারাকে ভালোবেসে গান করছেন অনেক তরুণ শিল্পী। এমনই একজন শিল্পী মিতু কর্মকার।
গানের রাজ্যে এরইমধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ কণ্ঠশিল্পী। এ সময়ের প্রতিভাবান গায়িকা হিসেবে তার জনপ্রিয়তাও তৈরি হয়েছে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। সর্বশেষ গত ঈদে বের হয়েছে তার একক এলবাম ‘ভেবেছিলাম’।
মিতু মূলত টাঙ্গাইলের মেয়ে। তবে তার বেড়ে ওঠা টঙ্গীতে। গানের সঙ্গেই তার বেড়ে ওঠা। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই গানকে ভালোবাসেন তিনি।
তিনি বলেন, গান আমার অক্সিজেন। গান ছাড়া আমি অস্তিত্ব সংকটে থাকি।
তার গানের শুরু মায়ের হাত ধরে। অক্ষরে হাতেখড়ি হওয়ার আগেই মায়ের কাছে গানে হাতেখড়ি। সেই শুরু থেকে এখনো শিখে যাচ্ছেন। এখন দীক্ষা নিচ্ছেন পন্ডিত সঞ্জীব দে’র কাছ থেকে। বিগত ১২ বছর ধরেই তার কাছে গান শিখছেন মিতু।

নিজের গুরুকে নিয়ে মিতু বলেন, ‘তার (সঞ্জীব দে) কাছে আমি গানকে দেখতে শিখেছি, অনুভব করতে শিখেছি। তিনিই আমাকে শিখিয়েছেন গানকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে যত্ন করতে হয়।’
গুরুকে নিজের জীবনের পথপ্রদর্শক বলে উল্লেখ করেন এই শিল্পী।

মিতুর প্রিয় শিল্পী উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী বেগম আক্তার। এছাড়াও নীলুফার ইয়াসমিন ও সাবিনা ইয়াসমিনের গানও ভালোবাসেন তিনি।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে দীক্ষা নিলেও রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি বা অন্য যে কারও গানও তার ভালো লাগে। বাংলাদেশ বেতারে তিনি নজরুলগীতিতে এবং বাংলাদেশ টিভিতে আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
ছোট থেকে গান করলেও মিতু শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০১৫ সালের ভালোবাসা দিবসে। ‘খুঁজি তোমায়’ নামে একটি মিক্সড অ্যালবামে দুটি গান করেন মিতু।
এরপর শুরু হয় ধীরে ধীরে পথচলা। অনেক অ্যালবামে গান করার প্রস্তাব পেলেও পছন্দসই না হওয়ায় করেননি তিনি।

এরপর নিয়মিত আসতে থাকেন দর্শকদের সামনে। সৈয়দ আবদুল হাদীর উপস্থাপনায় বাংলাভিশনের ‘গানে গানে দেশে দেশে’ অনুষ্ঠানে গান করে আলোচিত হন। এছাড়া মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘আনপ্লাগড প্রোগ্রাম’, এসএ টিভির ‘সন্ধ্যার মেঘমালা’, ‘সকালের ডায়েরি: হাওয়া লাগুক গানের পালে’, একাত্তর চ্যানেলের ‘একাত্তরের সকাল’ প্রোগ্রামে গান করেছেন।
সর্বশেষ ঈদে জি-সিরিজ থেকে মুক্তি পেল একক অ্যালবাম ‘ভেবেছিলাম’। এখন পর্যন্ত ভালোই সাড়া পাচ্ছেন। এজন্য জি-সিরিজকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মত তরুণ শিল্পীদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য জি-সিরিজের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
ভবিষ্যতে কি করতে চান জানতে চাইলে মিতু বলেন, বেশির ভাগ মানুষের পরিকল্পনার ‘পরি’ উড়ে যায় আর ‘কল্পনা’ পড়ে থাকে। তবে তার ইচ্ছা আগামী ১০ বছরে অন্তত এমন দুটি গান করবেন যা মানুষ মনে রাখবেন। সবসময় শুনবেন।
