আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন গভর্নর ফজলে কবির। গভর্নর হিসাবে এটাই হবে তার প্রথম মুদ্রানীতি ঘোষণা। মুদ্রানীতির প্রণয়নের প্রায় সব কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবীদ ড. বিরূপাক্ষ পাল ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এবারের মুদ্রানীতির প্রকৃতি ও ধরন আগের মুদ্রানীতির মতোই থাকছে। গত জানুয়ারিতে দেয়া মুদ্রানীতির ধরন সম্পর্কে বলা হয়েছিল এটি প্রবৃদ্ধি সহায়ক ও বিনিয়োগবান্ধব। নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকবে। আর জাতীয় বাজেটের সঙ্গে মিল রেখে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত গত মুদ্রানীতিতে জুন পর্যন্ত বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। জুন শেষে এ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৬ শতাংশ হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মুদ্রানীতিতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ থাকবে। তারই অংশ হিসাবে নির্বাচিত খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং রফতানিমুখী, উত্পাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব শিল্পস্থাপনে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বা ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারী উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ থাকবে নতুন মুদ্রানীতিতে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পণা তুলে ধরা হয়।
