চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মত উপ-মহাদেশে খেলতে এসে সেখানকারই সাবেক কোন কিংবদন্তীর সহযোগিতা নিয়ে মাঠে নামছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার থেকে পাল্লেকেলেতে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্টিভ স্মিথের দলের একটাই লক্ষ্য, উপ-মহাদেশে এ্যাওয়ে সিরিজে নিজেদের ফর্মহীনতাকে কাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করা।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এই একটি কারণে ভারতের সাথে খুব একটা পার্থক্য গড়তে পারছেনা অস্ট্রেলিয়া। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের পিছনে ছিল দলের ফাস্ট বোলাররা।
কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটে পেসাররা নিজেদের কতটা প্রমান করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। মঙ্গলবারের ম্যাচের মূল একাদশে অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার ন্যাথ্যান লিঁও ও ধীর গতির বাঁহাতি বোলার স্টিভ ও’কিফ দুজনেই থাকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুশীলন ম্যাচে দুজনেই নিজেদেরকে প্রমান করেছেন। উভয়ই মুরালির সাথে কাজ করে উপকৃত হয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য টেস্ট ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এই স্পিনারকে বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড চাকার হিসেবে মুরালিকে আখ্যায়িত করায় অস্ট্রেলিয়া সফরে না যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই তারকা স্পিনার। কিন্তু স্মিথ ও অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যারেন লেহম্যান তার প্রতি পূর্ণ আস্থা পোষন করেছেন। একইসাথে লিঁও ও ও’কিফের ওপর তার প্রভাবের প্রশংসা করেছেন। কলম্বোতে গত সপ্তাহে অনুশীলন ম্যানে ও’কিফ ১০ উইকেট দখল করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে লিঁও ২ উইকেট নিয়ে সকলকে সন্তুষ্ট করেছেন।
শ্রীলঙ্কা পৌঁছানোর পরে স্মিথ বলেছেন, এই সিরিজে মুরালির মত একজনকে পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের। ইতোমধ্যেই সে দলের সাথে দারুনভাবে মিশে গেছে, পুরো সময়টা সে দারুন উপভোগ করছে।
অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে উপমহাদেশে খেলতে এসে চারটি টেস্টেই পরাজিত হয়েছিল। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে মধ্য প্রাচ্যের দুটি ম্যাচেও পরাজিত হয়েছিল। গত দুই বছরে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে হারিয়ে শ্রীলংকা অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রতিপক্ষ হলেও অস্ট্রেলিয়া মোটেই সহজভাবে তাদের নিচ্ছে না।
২০১১ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়বার্ধানে ছিলেন। কিন্তু তাদের অবসরের পরে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে লংকানদের ক্রমাবনতি চোখে পড়েছে। পাল্লেকেলে টেস্টের দলে লংকান দলে রয়েছে তিনজন নতুন মুখ- পেসার আসিথা ফার্নান্দো, রোশানে সিলভা ও স্পিনার লক্ষণ সানদাকান। ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় করেছিল শ্রীলংকা। ঐ সিরিজেও মুরালিই ছিলেন লংকানদের জয়ের নায়ক।
স্বাগতিক অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজও স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল হলেও অসম্ভব বলে কিছুই নেই। এখানে সাহসিকতার সাথে ইতিবাচক ভাবে নিজেদের মেলে ধরতে হবে।
পাল্লেকেলের টেস্টের পরে গলে ৪-৮ আগস্ট দ্বিতীয় ও ১৩-১৭ আগস্ট কলম্বোতে তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
