সন্ত্রাসবিরোধী কাজে অংশ গ্রহণ জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৬, ১৮:৩০
সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত হতে নৈতিক দায় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের এক্ষেত্রে আইনগত দায় রয়েছে। তার বিশ্বাস সন্ত্রাস ও নাশকতা কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পৃক্ত থাকবেন। 
 
জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আলোচ্য কমিটিতে নাম থাকলেও কোথাও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠে দেখা যায় না-শুধুমাত্র প্রশাসন দিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব কী না?। 
 
তবে এবার একজন জেলা প্রশাসক লিখিত প্রস্তাব করেছেন, সকল জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে উপজেলা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছেন। কারণ হিসাবে তিনি বলছেন, এসব জনপ্রতিনিধি ভাল-মন্দ লোকের খোঁজ জানেন। তাদের সার্বক্ষণিক সহায়তা ছাড়া সন্ত্রাসী ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু সংকটকালে তাদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
  
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ( সমন্বয় ও সংস্কার) এম এস জিয়াউল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত. ২০১৩ সালে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রধান করে জেলা ও উপজেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ডে এ কমিটির প্রধান করা হয় মেম্বারকে। 
 
সম্প্রতি গুলশান হামলার পর এ কমিটির কার্যক্রম শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনামূলক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত একাধিক জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, কমিটিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী কমিটির কাজে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মেলেনি। ২০১৩ সাল ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দমনেও খুব কম জায়গায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মাঠে ছিলেন। মূলত প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশী তৎপরতায় ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।