বানারীপাড়ায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ভ্যানচালক কিশোর

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ০০:৪৭
বানারীপাড়ায় গ্রাম্য সালিশে এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর উপযুক্ত চিকিত্সার অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। স্থানীয় কয়েকজন স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে নবীন নামের ওই ভ্যানচালককে নির্যাতন করা হয়। একই অভিযোগে কামরুল ও মহিম নামের অপর দুই কিশোরকেও সালিসে জরিমানা ও বেত্রাঘাত করা হয়েছে।
 
গত শনিবার বিকেলে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর তিন ছাত্রী স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই গ্রামের নবীন, তার বন্ধু কামরুল ও মহিম তাদের উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ওই তিন ছাত্রী তাদের পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সালিসের নামে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এইচএম হাফিজুর রহমান মামুন, প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাস্টার, সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক হানিফ হাওলাদার ও স্থানীয় সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাদল হাওলাদার অভিযুক্ত নবীন, কামরুল ও মহিমকে স্কুলে ডেকে আনেন।  সালিসে কামরুলের কাছ থেকে ১০ হাজার ও মহিমের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে দুটি করে লাঠির বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। নবীনের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে সালিসকারীরা মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। এই কিশোরকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বৃদ্ধা দাদী  রহিমা বেগম ও চাচা নজরুল হাওলাদারও পিটুনির শিকার হন। এই নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে। নবীনের বাবা ঠেলাগাড়ি চালক ফারুক হাওলাদার জানান- তিনি কিভাবে ছেলের প্রাণ বাঁচাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি প্রভাবশালী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান। এদিকে অপরাধ করে থাকলে ওই কিশোরদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে কেন নির্মমভাবে নির্যাতন করা হলো, সাংবাদিকরা এ  প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত সালিসকারীরা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।