১৫ বছর পর মায়ের কোলে শিখা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ২২:২১
আট-নয় বছর বয়সে ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করতে এসে হারিয়ে যান কিশোরগঞ্জের শিখা। এবাড়ি-ওবাড়ি ঘুরে ঘুরে এক সময় চলে আসে খুলনায়।
 
নগরীর নিউ মিয়াপাড়া রোডের একটি বাড়িতে ঠাঁই হয় তার। সেখানেই ছিল দীর্ঘ ১৫ বছর। শিখার বয়স এখন ২৫ বছর। মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খোঁজ পায় তার। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অনুসন্ধান করে খুঁজে পায় তার মা রহিমা খাতুনকেও। গত ২৮ জুন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মাধ্যমে মা-মেয়ের মিলন হয় খুলনায়। কিন্তু মায়ার টানে শিখা তার মার সঙ্গে না গিয়ে থেকে যান আবুল হোসেনের বাড়িতে।
 
অবশেষে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিখার মা রহিমা বেগম ও ভাই রুবেল হোসেন আসেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা কার্যালয়ে। আসেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক (রাইটস) রিনা রায় এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। এ সময় রিনা রায়, বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জালাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে শিখাকে তার মা ও ভায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।
 
শিখাকে বিদায় জানানোর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ১৫ বছর যাবত যাদের দায়িত্বে লালিত-পালিত হয়েছেন শিখা সেই পরিবারের সদস্য মো. আবুল হোসেন, এম.এ রব পিয়াল, মো. আজিজুর রহমান, সাবরিনা আফরোজ ও দিলরুবা আক্তার। পরে অশ্রুসিক্ত নয়নে মা-ভাইয়ের হাত ধরে শিখা বাসে উঠে রওনা দেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
 
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর পুমাদী গ্রামের রহিমা খাতুন ও গিয়াস উদ্দীন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান শিখা আক্তার। বয়স যখন আট-নয় বছর, তখন তুলি নামের স্থানীয় এক মহিলা কাজ দেয়ার নাম করে শিখাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে একটি বাসায় রেখে তুলি চলে যান। এর কিছু দিন পর মারা যান তুলি। ওই বাসার গৃহকর্তা শিখার ওপর অত্যাচার করতেন। পরে ওই বাড়ির এক ভাড়াটের মাধ্যমে শিখার ঠাঁই মেলে ঢাকার এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়। সেখানে বছর খানেক থাকার পর পুলিশ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন শিখা। সেই বাড়িতেও শিখাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়। এরপর সেখানকার এক নারীর হাত ধরে শিখা আসেন খুলনায়। প্রথমে নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের একটি বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। এরপর প্রায় ১৫ বছর ধরে নগরীর নিউ মিয়াপাড়া রোডের আবুল মিয়ার বাড়িতে ছিলেন। শিখার বাড়ির লোকজনও জানতেন শিখা হারিয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর  সোমবার মায়ের কোলে ফিরতে পেরে দারুণ খুশি ছিলেন শিখা।