বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ৬ হাজার মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে ৫ কোটি টাকা, শুকনো খাবারসহ বন্যায় কাজে লাগে এমন সরঞ্জামাদির ৪ হাজার কার্টুন উপদ্রুত জেলায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি বুধবার সচিবালয়ের কেবিনেট বিভাগে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে বক্তৃতাকালে একথা বলেন।
তিনি সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, 'সরকার বন্যা কবলিত ১১টি জেলার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রেরণ করেছে। এর আগে বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এসব জেলা সফর করে করণীয় বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ইতোমধ্যে এসব জেলায় ৬ হাজার মেট্রিকটন চাল ও নগদ সাড়ে ৫ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে মন্ত্রণালয় থেকে শুকনা খাবারসহ বন্যায় কাজে লাগে এমন সরঞ্জামাদির ৪ হাজার কার্টুন উপদ্রুত জেলায় পাঠানো হয়েছে।'
খাদ্য সহায়তার অপ্রতুলতার বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন সরকারের নজরে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিজ নিজ জেলার খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার তথ্যাদি সংবাদকর্মীদের অবহিত রাখলে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা আরও বাড়বে।'
মাঠ পর্যায়ে জিআর চাল সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'শিগগিরই নতুন নীতিমালা করে পুনরায় জিআর চাল সহায়তা দেয়া হবে।' তিনি বলেন, 'সরকার ২১টি জেলাকে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা হিসেবে অনুর্ভুক্ত করেছে। এসব এলাকায় সরকার ২২০টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে। গ্রাম ও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চালানো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করার জন্য সরকার আগামী দুই বছরে ১৩ হাজার নতুন ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করবে।'
তিনি বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলীয় ১২ জেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৩৯,৩৬৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।' আরও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
