আমতলীর আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের আমতলা খালের স্লুইস গেটে মাছ শিকারের জন্য একাধিক জাল পেতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি জমে এখন ওই এলাকার নয়টি গ্রামে জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতায় গ্রামের প্রায় ২০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা পচে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, আমতলা খালের তিন কপাটের স্লুইস গেটের মুখে এলাকার প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের ছত্রচ্ছায়ায় কয়েকজন পর পর পাঁচটি অবৈধ ছোট ফাঁসের ভেষণ জাল পেতে খালের এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত সম্পূর্ণ আটকে মাছ শিকার করছে। জালের ফাঁস ছোট হওয়ায় শেওলা আটকে গিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খালের পাড়ের চাউলা, উত্তর সোনাখালী, দরিকাটা, গোলবুনিয়া, গোডাঙ্গা, ধোনান্দি, মৌবাড়িয়া, আমতলা ও আঠারগাছিয়া গ্রামে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমে মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত মাছ শিকারি গোলাম মস্তফা জানান, মামুন সিকদার মোগো মাছ ধরতে কইছে। এদিকে ইউপি সদস্য মামুন সিকদার বলেন, আমতলা খালে কঁচুরিপানায় ভর্তি ছিল। দুই মাস আগে যারা জাল পেতে মাছ শিকার করছে তাদের দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়েছে। তার প্রতিদান হিসেবে তাদের মাছ ধরার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জলাবদ্ধতায় দিশেহারা হয়ে গত ২২ জুলাই গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে অবৈধ জাল অপসারণের জন্য আবেদন করে। এতে শতাধিক কৃষক স্বাক্ষর করেন।
গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. ফজলে আলী খান জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা জাল অপসারণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় মেম্বর মামুন সিকদার চারদিন সময় নেন। যেহেতু সময়ের মধ্যে জাল অপসারণ করেনি তাই আমরা এখন অবৈধ জাল অপসারণের ব্যবস্থা নেব।
আমতলী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, খালে ছোট ফাঁসের ভেষণ জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমতলা খালে মাছ ধরার এ ধরনের অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে জাল অপসারণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
