রাজধানীর কল্যাণপুরের পুলিশি অভিযানে নিহতরা জঙ্গি কিনা এমন প্রশ্ন তোল বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন,এতো প্রমাণ থাকার পরেও বিএনপি নেতাদের জঙ্গিদের জন্য মায়াকান্নাই প্রমাণ করে দিয়েছে কারা জঙ্গিদের মদদদাতা,কারা জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে?জঙ্গি সমস্যার মূলউৎপাটনে জঙ্গিদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি যারা এসব জঙ্গিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে,অর্থায়ন করছে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।তাহলেই সমস্ত ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
বিএনপি রাজনীতির নামে জাতির সাথে প্রতারণা করছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন,বিএনপি একদিকে পাশে জঙ্গি রেখে জঙ্গি বিরোধি আন্দোলনের কথা বলছে আবার সরকার জঙ্গি নির্মূল করলে তারা জঙ্গি কিনা,জঙ্গিদের না মেরে গ্রেফতার করলেই হতো এমন মন্তব্য করছে।তাই জঙ্গিদের সাথে এদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জঙ্গি নির্মূলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি হামলাসহ বিভিন্ন গুপ্তহত্যার রহস্যের ভিতরে ঢুকতে পেরেছে।কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিরা দেশে বড় ধরনের নাশকতা করার পরিকল্পনা করেছিল।কিন্তু গোয়েন্দাবাহিনী ও আইনাশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্ম তৎপরতার কারণে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যারা আন্দোলন করছে তাদের উদ্দেশ্য কি এমন প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, গোটা দেশ যখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক হয়েছে, পাড়ায়-মহল্লায় যখন জনগণ জঙ্গি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করছে সে সময়ে যারা রামপাল নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে চাইছে,ঢাকা শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে তখন তাদের উদ্দেশ্য কি শুধুই রামপাল নাকি অন্যকিছু তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে অন্য ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা করতে চাইছে তাদের উদ্দেশ্য কি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংগঠনের সভাপতি এমএ জলিলের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু,অরুণ সরকার রানা,এমএ করিম,শাহাদাত হোসাইন প্রমুখ।
