গঙ্গাচড়ায় সাবাড় হচ্ছে সরকারি রাস্তার গাছ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৬, ০১:১৪
গঙ্গাচড়ায় দিনের বেলায় প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যাচ্ছে সরকারি গাছ। রংপুর জেলা পরিষদের আওতাধীন এসব রাস্তার মরা গাছ সাবাড় হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
 
 রংপুরের গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন সড়কের মূল্যবান শিশু গাছগুলো শুকিয়ে মরে গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির লোক রাতে কিংবা দিনের বেলায় কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে তারা গোড়ার দিকে আস্তে আস্তে কাটে। তারপর কোনো একদিন সমস্ত গাছটি কেটে নিয়ে যায়। উপজেলার অধিকাংশ রাস্তার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। ফাঁকা হয়ে গেছে রাস্তা।
 
রংপুর-গঙ্গাচড়া, গঙ্গাচড়া-বেতগাড়ী, গজঘন্টা-গঙ্গাচড়া, মহিপুর-গঙ্গাচড়া, কোলকোন্দ-গঙ্গাচড়া, গঙ্গাচড়া-বড়াইবাড়ি, মহিপুর-বুড়িরহাটসহ বিভিন্ন সড়কে শত শত মরা শিশু, কড়াইগাছ তদারকি না থাকার কারণে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে লোকজন।
 
রংপুর জেলা পরিষদের সচিব আরজুয়ারা বেগম বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি। জনবল কম তাই সবকিছু দেখা সহজে হয় না। তবে কোথাও কোনো অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
 
ঘোড়াঘাটে গাছ নিধন
 
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ-ডুগডুগী সড়কের দুই ধারে শত শত গাছ চোরেরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই। জানা গেছে, ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে এলজিইডি ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে উপজেলার রাণীগঞ্জ-ডুগডুগী পাকা সড়কের দুই ধারে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তায় মেহগুনী, ইউক্লিপটাসসহ অন্যান্য ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করে। চারাগুলো এক বছর পূর্বে প্রায় পরিপূর্ণতা লাভ করে একটি দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হয়। গত ৬ মাস থেকে একই উপজেলার ইচলা বিলপাড়া ও উমরপুর বিলপাড়া গ্রামের একটি সংঘবদ্ধ গাছ কাটা দল রাতের পর রাত ওই সব দৃষ্টিনন্দন মূল্যবান গাছগুলো চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়কটির দুই ধার একবারে ফাঁকা হয়ে গেছে।
 
বর্তমানে রাণীগঞ্জ-ডুগডুগী সড়কের ৫০-৬০টি গাছ চোখে পড়ে। বাকি এক থেকে দেড় হাজার মূল্যবান মেহগুনী গাছগুলো রাতের পর রাত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ ও ২৩ জুলাই ওই সংঘবদ্ধ দলটি বিলপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে ছয়টি মেহগুনী গাছ কেটে নিয়ে যায়। পাশাপাশি আরো দুটি গাছের গোড়া তিনভাগ কেটে রাখে। চোরাই গাছগুলো উপজেলার নির্বাহী অফিসার রোখছানা বেগম পালশা ইউপি চেয়ারম্যান কবিরুল ইসলাম প্রধানের মাধ্যমে ইউপি অফিসে জমা রাখে।
 
এ ঘটনায় ইউএনও’র পরামর্শে ইউপি চেয়ারম্যান মহল্লাদারকে বাদী করে ঘোড়াঘাট থানায় একটি এজাহার প্রেরণ করেন।