সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্য

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৬, ১৯:৩৭
চলতি অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরে কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই লক্ষ্য আগের অর্থবছরের তুলনায় এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা বেশি।
 
এবার শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট ছাড়াই একজন কৃষক সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল দেড় লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বিতরণ করতে হবে। তবে নেটওয়ার্ক অপ্রতুলতার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হবে না।
 
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ফজলে কবির এ নীতিমালা ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ‘মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি ও পল্লী অর্থনীতির অবদান প্রায় এক পঞ্চমাংশ। আর শ্রমজীবী কর্মশক্তির প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানে এ খাতের অবদান ৪৫ শতাংশের মতো। রফতানিতেও কৃষিখাতের ভূমিকা বাড়ছে। ২০১৬ সালের মে মাসে মোট রফতানিতে কৃষিপণ্যের অংশ ছিল সাত দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটিতে ব্যাংকিং ও আর্থিক বাজারের ঋণ যোগান রয়েছে সার্বিক ঋণ যোগানের তিন শতাংশেরও কম।
 
গেল অর্থবছরের প্রকৃত বিতরণের চেয়ে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা কম হওয়ায় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হবার কথা নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রায় শিথিলতা প্রদানের পরেও যেসব ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনার্জিত অংশ বিনা সুদে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করতে হবে।
 
গেল অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বা ১০৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণে সক্ষম হয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
 
নীতিমালা অনুযায়ী, এবার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায়ও ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে এজেন্টদের কমিশন বা সার্ভিস চার্জ হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত সুদের অতিরিক্ত দশমিক ৫০ শতাংশ আদায় করা সুযোগ রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী জুলাই থেকে কৃষি ও পল্লী ঋণের নির্ধারিত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা হবে ১০ শতাংশ।