সুদের টাকার দেনা নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে মেহেরপুরের গাংনীর মহাম্মদপুর গ্রামের জমির উদ্দীন (৩৫) নামে দিনমজুর এক কৃষক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে রাগে-অভিমানে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠে সে বিষপান করে। এইদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত জমির উদ্দীন এ উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের মৃত তুফান শেখের ছেলে। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে বর্তমানে আকুবপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হোগলবাড়ীয়া গ্রামের সলিম উদ্দীনের ছেলে আব্দুস সালামের কাছ থেকে সুদে কিছু টাকা নিয়েছিলেন জমির উদ্দীন। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন না। ওই টাকা সুদে-আসলে নয় হাজারে দাঁড়ায়। তার বাড়িতে সালাম টাকা আদায় করতে গেলে পরিবারের লোকজন টের পায়।
দাদন ব্যবসায়ী সালাম টাকার জন্য চাপ দিলেও জমিরের টাকা পরিশোধের সাধ্য ছিল না। এ নিয়ে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে ঝগড়া বাধে জমিরের। মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে রাগে-ক্ষোভে অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় জমির উদ্দীন। কয়েক ঘণ্টা ধরে সে বাড়ি না ফেরায় স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু তার কোন হদিস মেলেনি। পরে রাত দশটার দিকে একটি ব্রিজের অদূরে হোগলবাড়ীয়া মাঠের একটি মেহগনি বাগানের মধ্যে তার লাশের সন্ধান পায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে। বিষপানে সে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ ও পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, কোন কীটনাশক বিক্রেতার কাছ থেকে বিষ কিনে সে মাঠের মধ্যে যেতে পারে। লাশ উদ্ধারের জায়গাটি নির্জন এলাকা। সেখানে দুপুরের পরে স্বাভাবিক ভাবেই কোন মানুষজন থাকে না। জনমানুষ শূন্য স্থান নিশ্চিত হয়েই সে বিষপান করেছে বিধায় দিনের বেলায় কারো চোখে পড়েনি।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, জমির উদ্দীনের মুখ ও শরীরে বিষের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে। বিষপানে আত্মহত্যা করলে মুখ দিয়ে যে লালা বের হয় তাও দেখা যায়। বিকেলের দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে।
