মওদুদের বাড়ি নিয়ে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৬, ১১:৪৬
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ভাই মনজুর আহমদের গুলশানের বাড়ি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায় পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার প্রকাশ পেয়েছে। এখন রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে মওদুদ আহমদকে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করতে হবে।
 
রিভিউ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাজউক এই বাড়ির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এক সে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সরকার রাউজকের আপিল গ্রহণ করে মনজুর আহমদের নামে নাম জারি (মিউটিশন)ও ডিক্রি জারি করতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে দেয়। 
 
২০১০ সালের ১২ আগস্ট এক আবেদনের শুনানি নিয়ে গুলশানের ওই বাড়িটি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য রায় দেন হাইকোর্ট। রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেয়। এদিকে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাড়িটি নিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুদকের দাবি, ‘বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তত্কালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। এরপর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ড প্রবাসী ভাই মনজুরের নামে থাকা একটি আমমোক্তারনামার ভিত্তিতে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন। কিন্তু বাড়িটির নামজারি কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা ছিল। মনজুর আহমেদ তার অনুকূলে নামজারি করার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। বর্তমান সরকারের আমলে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে মওদুদ আহমদের ভাইয়ের অনুকূলে নামজারি সম্পন্নের জন্য নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজউক আপিল করে। অন্যদিকে আমমোক্তারনামাটি সঠিক নয় এই অভিযোগে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। ২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মওদুদ আহমদ। 
 
আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং মওদুদের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, কামরুল হক সিদ্দিকী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন। গতকাল ওই রায় দেয় আপিল বিভাগ।