ভোগান্তির অপর নাম ‘গোমাতলী বেইলি ব্রিজ’

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪৮

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নে গোমাতলী বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এপাশ-ওপাশের কয়েকটি পাটাতন ক্ষয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। ফলে লবণ ও অন্য ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহণ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এতে পারাপার নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রাও।

লোহার কয়েকটি পাটাতনের জয়েন্ট উঠে গিয়েছে। চলাচলের সময় ভয়ানক শব্দ হয়। ভেঙ্গে পড়ায় ভয়ে তটস্থ থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষকে। এতে সময়ে-অসময়ে ঘটছে দুর্ঘটনাও।

পূর্ব গোমাতলীর পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহত্তর গোমাতলীতে প্রায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি এলজিইডির সড়ক রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার একর লবণ মাঠে। গ্রীষ্মে লবণ উৎপাদন ও বর্ষায় বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয় এ এলাকায়। উৎপাদিত এসব পণ্য পরিবহনে স্থল যোগাযোগের জন্য ঈদগাঁও-গোমাতলী সড়কের গোমাতলী বেইলি ব্রিজটি একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু মাস ছয়েক আগে থেকে গোমাতলী বেইলি ব্রিজটির উভয় পাশ ও মাঝখানে ক্ষয়ে গিয়ে স্থানে স্থানে গর্ত হয়ে গেছে। ফলে যাতায়াত নিয়ে লবণ-মৎস্য চাষী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণীর মানুষ ভোগান্তি পাচ্ছে।

ইজিবাইক চালক শফি আলম বলেন, ‘উৎপাদনশীল এলাকা হিসেবে গোমাতলী কেন্দ্রীক লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। সে হিসেবে জীবন সংশ্লিষ্ট নানা ধরণের পণ্য নিয়মিত পরিবহন করতে হয়। কিন্তু মালামাল নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে অনেক সময় ভাঙ্গা পাঠাতনে চাকা ঢুকে গিয়ে গাড়ি উল্টে যাবার ঘটনাও ঘটেছে। তাই ব্রিজের ওপর দিয়ে গেলে বুকটা কেঁপে উঠে।’

লবণ চাষী মালিক হাফেজ জমির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘ব্রিজের প্রায় সব পাটাতনের জয়েন্ট খুলে গেছে। কিন্তু ভাঙ্গা বা খুলে যাওয়া অংশে কোন প্রকার বিপজ্জনক সংকেত বা নিশানা না থাকায় নতুন আসা গাড়িগুলো দুর্ঘটনায় পড়ছে বেশি। সড়কটিতে বড় কোন যানবাহন না থাকায় ছোট যানেই ভরসা করতে হচ্ছে ব্রিজের এপার-ওপারের লাখো মানুষের। ফলে ব্রিজটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের একাধিক পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা (সিএনজি), ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ভ্যানগাড়ি ও বাইসাইকেল চলাচল করছে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হতে নিরাপদ বোধ করছেন। রাতে ভাঙ্গা ব্রিজের আশপাশে বাতি বা আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে ব্রিজের ভাঙ্গা পাটাতনের ভেতর পড়ে যান বলেও দাবি করেন স্থানীয় অধিবাসী সামশুল আলম।

পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় সদস্য কলিম উল্লাহ জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লবণ, মাছ আগে মিনিট্রাক ও মাহিন্দ্রাতে পরিবহন হতো। কিন্তু ব্রিজটির এ হাল হবার পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। যাতায়াত করে কয়েকশ শিক্ষার্থী। ব্রিজের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তার মতে, শুষ্ক মৌসুমে ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে লবণ মৌসুমের শেষের দিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে গোমাতলী।

আরও পড়ুনঃ ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু

তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে এলজিইডি সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘লবণাক্ত আবহাওয়ার কারণে কয়েক বছর পরপর বেইলি ব্রিজটির পাটাতন ক্ষয়ের ঘটনা ঘটে। সরকারি কাজ বিধায় সংস্কারে কিছু প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। এবারও পাঠাতন উঠে যাওয়া ও ক্ষয়ে গিয়ে ভয়ানক হওয়ার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। মেরামতের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/নূহু