গোখাদ্যে স্টেরয়েড ও রাসায়নিক মেশানো প্রতিরোধে আসন্ন ঈদে সকল পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মনিটর করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।
তিনি বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি এবং আসন্ন ঈদুল আজহার নিরাপদ মাংস উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ও সচিব মাকসুদুল হাসান খান।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শুভংকর সাহা, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ইউসুফ, ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় প্রমুখ। ছায়েদুল হক বলেন, 'ঈদকে সামনে রেখে অসাধু উপায়ে কেউ যাতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে স্টেরয়েড মেশাতে না পারে সেজন্য মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আইন ও বিধি অনুযায়ী মামলা করার ক্ষমতা রাখবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।'
এসময় মন্ত্রী বলেন, 'দেশে দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। জাত উন্নয়নের লাগামসই প্রযুক্তি হলো কৃত্রিম প্রজনন। এ লক্ষ্যে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দেশে দুধ মাংস ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে।'
তিনি বলেন, 'দেশে কোরবানির সময়ে যে পরিমাণ গরু কোরবানি হয় তার চাহিদার সিংহভাগ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যোগান দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়া চাহিদার তুলনায় দেশে ছাগলের কোনো ঘাটতি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।'
মন্ত্রী বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রধান লক্ষ হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার শূন্যে নামিয়ে আনা এবং পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ। অতি স্বল্প পুঁজি নিয়ে মাত্র একটি গরু হৃষ্টপুষ্ট করে আমরা ব্যক্তিপর্যায়ে সম্পদ সৃষ্টির প্রয়াস পেতে পারি।' খবর- বাসস।
