আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক-পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৬, ১০:৩২
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালীন অস্ত্রসহ এক যুবককে এলাকাবাসীর আটকের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এক প্রার্থীর ভাইকে প্রতি পক্ষের সমর্থকদের মারপিট ও এক ইউপি চেয়ারম্যানকে পুলিশের মারপিটের জের ধরে পুলিশের সঙ্গে এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। ৩ পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। 
 
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে পৌরসভার কচুবাড়িয়া এলাকায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার কচুবাড়িয়া এলাকায় এলাকাবাসী উজ্জ্বল নামে এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করে। এলাকাবাসীর ধারণা উজ্জ্বল নামের ওই সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শরীফুল ইসলামের সমর্থক। এ সময় আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফুল ইসলামের সমর্থকরা শরীফুল ইসলামের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের আশংকায় পুলিশ শরীফুল ইসলামকে  উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। 
 
রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশরাফুলের সমর্থকরা অপর মেয়র প্রার্থী শরিফুলের ভাই মনিরুল ইসলামকে থানার সামনে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় উভয় পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
 
এরপর আশরাফুলের সমর্থক কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান লোকজন নিয়ে লোহাগড়া থানায় প্রবেশ করে পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এসময় থানা পুলিশ চেয়ারম্যান মতিয়ারকে আটক করে লোহাগড়া থানার মধ্যে মারপিট করে করে বলে অভিযোগ ওঠে। তখন থানার বাইরে থাকা আশরাফুলের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
 
সংঘর্ষে লোহাগড়া থানার এস আই শিমুল, এস আই নাছির, এস আই মিহিরসহ অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 
 
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সাহা ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ ৬জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট লোহাগড়া পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।