আমাদের নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৬, ০৮:২৫
‘ভিক্ষুকের জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না’— জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিরস্মরণীয় এই উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আমাদের নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। আর সেটা মাথায় রেখেই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, জীবনমানের উন্নতি, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যুত্সহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধিসহ দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, এগিয়ে চলার এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এটা যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়। সেটাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেই যেন বিপদ বেশি হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেজন্যই প্রাণ দিতে হয়েছিল। আর পঁচাত্তরের পর থেকেই দেশে শুরু হয় হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। তিনি বলেন, দেশের শাসনকার্য পরিচলনা করা গুরুদায়িত্ব। 
 
কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় রোধে সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। এতে আমাদের নিজেদেরও কাজের একটা স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এ অর্থটা আমাদের, এটার যেন অপচয় না হয়। তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নটা শুধু অর্থ ব্যয়ের চিন্তা থেকেই যেন না হয়। সেখান থেকে দেশের কতটুকু উন্নতি হবে আর এর সুফল মানুষ কতটুকু পাবে সে হিসাবটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হই। পাঁচ বছরে আমরা জনগণকে কতটা সেবা দিতে পারব, আর সেটা অর্জন করাই আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।   
 
প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সুন্দর আগামীর জন্য স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের যে চেতনা তা জনগণের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে পারলেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মানুষকে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে হবে যে, তার জীবনটাও উন্নত হবে, হাহাকার থাকবে না, জীবনমান উন্নত হবে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকারটাও কিন্তু আমাদের অর্জন করতে হয়েছে অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে। সেটাও আমাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই আমরা সেই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কাজ করছি বলেই আজকে যেমন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি, মানুষের জীবনমান কিছুটা হলেও উন্নত করতে পেরেছি। 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি ছাড়া কখনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতির পিতা আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। আমরা ৯৬ সালে ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি এবং ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি। এর মধ্যে কোনো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হয়নি। এখন আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছি। তিনি বলেন, যদি আপনারা অতিরিক্ত শ্রম দিতে পারেন। তবে আমাদের লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৭ সালে তাকে যখন জেলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনি সেখানে বসেও ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কখন কীভাবে কাজ করা যেতে পারে, কীভাবে দেশকে একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে ভেবেছেন। আর পরে সেগুলোর ভিত্তিতেই একটি সার্বিক পরিকল্পনার আকারে তৈরি হয় রূপকল্প ২০২১। 
 
জাতিসংঘের এমডিজি এবং এসডিজিতে প্রণয়ন করার সময় তার জাতিসংঘে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক প্রস্তাবই তখন জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশের অর্জনকে সকলেই সাধুবাদ দিয়েছে এবং গ্রহণ করেছে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজেট বৃদ্ধি করেছি। এত বিশাল আকারে বাজেট বাংলাদেশে আর কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার আলোকে সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির একটি কাঠামো অনুসৃত হয়ে আসছে। এই পদ্ধতির আওতায় প্রতিবছর প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লি­ষ্ট মহলকে আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি এটি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লে­খ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছর নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর হলো। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সিনিয়র সচিব এবং সচিবগণ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়, দফতর ও বিভাগের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোর সঙ্গেও এই চুক্তি হয়।
 
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় এবং সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
হাজিদের বিশ্রামে ৫০ সেট বালিশ
 
তোশক দিলেন প্রধানমন্ত্রী
 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত হাজিদের বিশ্রাম নেওয়ার সুবিধার্থে তার ও শেখ রেহানার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ সেট বালিশ, চাদর, তোশক ও বালিশের কাভার প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল বিকাল পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী সামরিক সচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ্ এ সকল দ্রব্য হাজিদের উপস্থিতিতে আশকোনায় অবস্থিত হজ ক্যাম্পের পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামালের কাছে পৌঁছে দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লে­খ করা হয়।