ভূঞাপুরে বন্যার পানিতে পোল্ট্রি-মৎস্য খামার তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৬, ১৬:২৪
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বন্যায় মৎস্য ও পোল্ট্রি খামার তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। দুই সপ্তাহের বন্যায় উপজেলায় প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে খামারি মালিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।
 
সরেজমিনে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) অধীন ১০৮ বড়পিট (বড় পুকুর), সড়ক ও জনপথ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫৫টি বড়পিট মৎস্য খামারি মালিকদের প্রায় কোটি টাকার উপর লোকসান হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১০৮টি বড়পুকুর ইজারা নেয় স্থানীয়রা। এবারের হঠাৎ বন্যায় খামারীরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ার আগেই পুকুরগুলো তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অন্যদিকে উপজেলার শতাধিক পোল্ট্রি খামারে বন্যার পানি উঠে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) থেকে ৮-১৪ নম্বর পর্যন্ত পুকুর ইজারা নেয়া মৎস্য চাষী মিজানুর রহমান আক্তার বলেন, ‘ব্যাংক ও এনজিও থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ করে মৎস্য খাতে বিনিয়োগ করেছি। পুকুরগুলোর পাড় তৈরি করে না দেয়ায় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি।’
 
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সাইট অফিসের বিবিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াসিম আলীর সঙ্গে অনেক চেষ্টার পর যোগাযোগ করা যায়নি।
 
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লা জানান, বন্যায় খামারীদের প্রায় কোটি টাকার লোকসান হলেও মৎস্যের কোন ক্ষতি হয়নি। বন্যায় ভেসে যাওয়ার কারণে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির কোনো প্রকার ক্ষতি হয়নি বরং স্থানান্তর হয়েছে। উপজেলায় প্রতি হেক্টরে দুই মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের মাছ উৎপাদন হয়ে আসছিল।
 
তিনি আরো জানান, ‘ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা করে অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।
 
উপজেলার পোল্ট্রি খামারি মালিক রাসেল, কালাম, বাছেদসহ অনেকেই জানান, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পোল্ট্রি খামার। খামারের মুরগির ক্যাস (খাঁচা) উঠিয়ে উপরে তুলেও রক্ষা পাওয়া যায়নি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বেশির ভাগ মুরগি মারা গেছে।
 
ভূঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভি এস চিকিৎসক গৌর চন্দ্র সাহা জানান, উপজেলার ১৫০টি খামার বন্যার পানিতে প্রায় তিন লাখ মুরগি মারা গেছে। এগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।