ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত এলাকায় ‘সংগঠিত’ হচ্ছে জেএমবি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১২:৪৪
 
ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী জেলায় আবারো ‘সংগঠিত’ হওয়ার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা। সেখানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে বলে জানান সীমান্তর্তী গ্রামের বাসিন্দারা।
 
জঙ্গিদের আনাগোনার এমন খবরে সম্প্রতি হরিপুর উপজেলার বরিয়াল এলাকা থেকে সাহেব জান নামে এক জেএমবি সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। এসময় একটি বিদেশি পিস্তলের পাশাপাশি তিন রাউন্ড গুলি ও দুইটি দেশীয় ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
 
এছাড়াও ঠাকুরগাঁও সরকার পাড়া এলাকার এনতাজুল রহমানের ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র আবু হাসনাত ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্র আবু হান্নানকে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সংযুক্ত থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
 
আবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার গড়নড়পুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জিহাদি বই ও লিফলেটসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার শাহানুর রহমান নামের একজন রয়েছে।
 
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, জেএমবির সাংগঠনিক কাঠামো অনেক আগেই ভেঙে গেছে। তবুও সক্রিয় হতে পারে জেএমবি। তাই সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরে আছে।
 
সূত্র জানায়, জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক সময় সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলার বেশ কয়েকজনের যোগাযোগ এবং জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের অনেক নিকট আত্মীয় ঐ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা বানাতে গিয়ে এবং বন্দুকযুদ্ধে আহত ও নিহত হয়।
 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ধরাশায়ী হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এই এলাকায়ও জেএমবির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সম্প্রতি দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে নড়েচড়ে ওঠে এই এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা  ঐ সংগঠনের সদস্যরা। তারা গোপনে রাণীশংকৈল ও হরিপুর সীমান্ত এলাকায় সংগঠিত হতে থাকে বলে সূত্র জানায়।
 
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তত্পরতায় এবং সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী কর্মকান্ড জোরদার হওয়ায় জেএমবির অনেক সদস্য দুর্গম সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলাকে নিরাপদ মনে করছে এবং এখানে অবস্থান করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন উন্নত নয়।
 
রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের লোকজনের বসতি বেশি। তাই এখানকার লোকজনকে এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা তেমন চেনে না। তাদের বাড়িতে কারা কখন আসা-যাওয়া করছে বা তারা এখানকার নাকি বাইরের এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না স্থানীয়রা।
 
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকায় বাইরে থেকে অপরিচিত লোকজন এখানে আসা-যাওয়া করছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। সূত্র জানায়, একেক দিন একেক রকম লোক এলাকায় আসছে। তাদের চেনা যাচ্ছে না। জানতে চাইলে বাইরে থেকে এখানে এসে বসবাসকারী অনেকে বলছেন, তাদের আত্মীয়। স্থানীয়দের ধারণা, জেএমবি সদস্যরা অনেকটা নিরাপদ এলাকা হিসেবে হরিপুর উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
 
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, বাইরের লোকজনের আনাগোনার বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।
 
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক মুঠোফোনে বলেন, ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সংগঠিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে যুক্ত ছিল ও বিভিন্ন নাশকতার মামলায় জামিনে বেড়িয়ে আত্মগোপনে থেকে আবারো জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। নাশকতার মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এএস